
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কুটনৈতিক এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান নিকেতন।গুলশান নিকেতন বসবাস করে দেশের এলিট শ্রেণির ব্যবসায়ী ও বিদেশি কূটনীতিক ব্যক্তিবর্গ।
রাজধানীর হাতিরঝিলের নিকেতন অংশে সুদৃশ্য একটি ১০ তলা ভবন নজর কাড়ে যে কারও। এটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) হাতিরঝিল কার পার্কিং ও ম্যানেজমেন্ট ভবন।
পুরো হাতিরঝিল ব্যবস্থাপনার জন্য ২০১৯ সালের অক্টোবরে ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। বিশাল ভবনে রয়েছে আট তলা পার্কিং সুবিধা, একটি কনভেনশন সেন্টার ও রাজউকের একটি কার্যালয়।
ভবনের সামনে বড় সাইনবোর্ডে লেখা, ‘হাতিরঝিল ব্যবস্থাপনা ভবন’। কিন্তু এখানে জাল বিস্তার করেছে নানা অব্যবস্থাপনা। এমনকি ভবনে অফিস করেন না কোনো ‘ব্যবস্থাপক’।
সাম্প্রতিক সময়ে হাতিরঝিল ব্যবস্থাপনা ভবনের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের লিখিত অভিযোগ করেছেন নিকেতনের স্থায়ী বাসিন্দা বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহ্বাজ গনি আহমেদ।উত্তর সিটি করপোরেশন,পরিবেশ অধিদপ্তর,রাজউক,গুলশান থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন,তৎকালীন স্বৈরাচার সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হাত ধরে রাজউক কিছু অসাধু কর্মকর্তার ঘুষ দিয়ে অবৈধভাবে হাতিরঝিল ব্যবস্থাপনা ভবনে কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া দেয়া হয়।পুরো ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত ছিলেন তৎকালীন ফ্যাসিস্টের দোষর নোয়াখালী-৩ আসনের সাবেক এমপি মোর্শেদ আলম।
অভিযোগে গনি আহমেদ উল্লেখ করেন আমার নিজস্ব আবাসিক ডুপ্লেক্স বাড়ি যাহার ঠিকানা- বাড়ি নং-৭৫-৭৬, রোড নং-০৮, ব্লক-সি, নিকেতন, গুলশান-১, ঢাকা এর ঠিক পার্শ্ববর্তী হোল্ডিং এ হাতিরঝিল প্রকল্পের আওতায় "হাতিরঝিল ব্যবস্থাপনা ভবন-কাম বহুতল কার পার্কিং" নির্মাণ করা হয়েছে যাহা বর্তমানে "Elite Convention Hall" নামে পরিচালিত হচ্ছে। নিকেতন আবাসিক এলাকায় হাতিরঝিলের কার পার্কিং কে কোন যুক্তিতে কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ভাড়া দেওয়া হল তাহা আমাদের বোধগম্য নয়। উক্ত কমিউনিটি সেন্টারে প্রায় প্রতিরাতেই গান বাজনা ও ডিজে পার্টির বিকট শব্দ আমাদের পরিবারের নিত্য সঙ্গী।
এছাড়া উক্ত বিল্ডিং-এ উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন (৫০০ KVA) ক্যানপি বিহীন ডিজেল জেনারেটর বসানো হয়েছে যাহার বিকট শব্দে আমাদের বসবাস করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেনারেটরের বিষাক্ত কালো ধোয়া আমার বাড়িতে সরাসরি প্রবেশ করার কারনে মারাত্মক পরিবেশ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছি। ইহা ছাড়াও উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এয়ার কন্ডিশনারের আউটডোর গুলোর গরম বাতাস আমার বাড়িতে সরাসরি প্রবেশের কারনে বসবাসের অযোগ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাছাড়া এই ভবনের নিচ তলার পশ্চিম পার্শ্বে অপরিকল্পিত ভাবে ঢাকনা বিহীন সুয়ারেজ লাইন রয়েছে যাতে মশা-মাছির বংশ বিস্তার করছে। এতে করে আমাদের, তথা নিকেতন বাসির সর্বস্তরের জনগনের সুখাধিকারের অকাল মৃত্যু ঘটাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তাদের সাথে বহুবার আলোচনা করেও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। গণতান্ত্রিক দেশে স্বাভাবিক ভাবে বসবাস করার স্বাধীনতা হরন করা একটি মারাত্মক অপরাধ। সুতরাং উক্ত বিষয়টি আমলে নিয়ে স্থায়ীভাবে শব্দ ও পরিবেশ দূষণ বন্ধ করার যথাযত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি।
সর্বোপরি তিনি বলেন,যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে প্রতিবেশির দ্বারা সংঘটিত শব্দ ও পরিবেশ দূষণের বিষয়টি স্থায়ীভাবে বন্ধ না করলে আমি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
এই বিষয়ে পরিবেশবিদ আবু নাসের খান বলেন,আবাসিক এলাকায় আশেপাশের কোনো কমিউনিটি সেন্টার তো দূরে থাক সাউন্ড সিস্টেম বাজানো ও দন্ডনীয় অপরাধ।যদি কেউ জোরপূর্বক করতে চায় তার বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশ আদালত আইনে ভুক্তভোগী মামলা করতে পারবে।
অভিযোগের বিষয়ে রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেন,অভিযোগের কপিটি আমি হাতে পায়নি। অভিযোগ পেয়ে থাকলে কি পদক্ষেপ নিয়েছে সেটা আমি আপনাকে রবিবার জানাতে পারবো, বিষয়টি আমরা সরেজমিনে গিয়ে তার বাসায় গিয়ে দেখে আসবো।
এই বিষয়ে এলিট কনভেনশন হলের ৫ বছর মেয়াদী চুক্তিতে ভাড়া নেওয়া মালিক দিপুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এই ভবনটি আমি নিয়ে বিপদে আছি,গত এক বছরে আমি দেড় কোটি টাকার লোকসান গুনতে হয়েছে। যেতেতু ভবনটি রাজউকের এই ভবনের একটি ইট ধরার ও আমার ক্ষমতা নেই,ভুক্তভোগী গনি ভাই রাজউকের সাথে কথা বলে তার সমস্যার সমাধান করতে পারে। আমি ও চাই তার সমস্যার সমাধান হোক। আমি ঠিক মতো আমার কাজটি করে যেতে পারি।