
প্রকাশিত,০১, এপ্রিল,২০২২
মোঃ ফিরোজ ফরাজী , রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালীঃ
যানবাহন কিংবা পথচারী চলা দুষ্কর! একটু বাতাসেই ধুলোবালুতে সড়কের হাল হয়,নাজেহাল। দু’পাশের গাছপালা, বাড়িঘর সবই ধুলো আর বালুতে হয় একাকার। এমন চিত্র পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের খালগোড়া-সেনের হাওলা গ্রামের অর্ধনির্মিত সড়কের।
শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই সড়কের নির্মাণ কাজ অর্ধেকটা শেষ হয়েছে। সড়কে অনেক স্থানেই ইটের খোয়া ফেলে রোলার দেওয়া হয়েছে। এরপর প্রায় এক বছর ধরে ফেলে রাখা হয়েছে সড়কটি। ঠিকাদার সড়কটি নির্মাণ কাজ শেষ করতে দুইবার সময় বাড়ালেও নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারেননি। বর্তমানে ধুলার দাপটে সাড়ে তিন কিলোমিটারের বেশি দৈর্ঘ্যরে এই সড়কের দুই পশের বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশের বাড়িঘর, গাছপালা ইটের খোয়ার ধুলোয় লালছে হয়ে রয়েছে। ধুলায় যানবাহনের যাত্রী ও পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগের যেন শেষ নেই।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘বৃহত্তর পটুয়াখালী জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন (পটুয়াখালী ও বরগুনা) প্রকল্পের’ আওতায় উপজেলার খালগোড়া থেকে পশুরবুনিয়া হয়ে সেনের হাওলা আলী আশরাফ ফরেস্টারের বাড়ী পর্যন্ত তিন হাজার ৭০০ মিটার দৈর্ঘ্যে ও তিন মিটার প্রস্থের এই সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। এম.ডি.এইচ ও এস.এইচ.ই এই দুইটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যৌথ ভাবে সড়কটি নির্মান কাজ করার কার্যাদেশ পান ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর। সড়ক নির্মাণে চুক্তিমূল্য ধরা হয় তিন কোটি ১৯ লাখ ৮৩ হাজার ৩০৯ টাকা।
জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সড়কটি নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। এরপর ঠিকাদার সড়কটি নির্মাণ কাজ শুরু করে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়ক নির্মাণ করতে গিয়ে পুরো সড়কে বালু ও ইটের খোয়া ফেলে রোলার দিয়ে দেয়। তবে সড়কের অনেক স্থানে ঠিকমত খোয়া না ফেলা ও রোলার না দেওয়ায় উঁচু-নিচু রয়ে গেছে।
অপরদিকে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়কের ৫৫ শতাংশ কাজ করে ফেলে রেখে দেওয়ায় প্রায় বছরখানেক ধরেই ধুলার দাপটে ভোগান্তিতে থাকেন সড়কের দুই পাশের বাসিন্দারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে সড়ক নির্মাণ কাজ বাবদ এক কোটি তিন লাখ টাকার একটি বিলও তুলে নিয়েছেন। এছাড়াও সড়কটি নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য ইতিমধ্যে সময় বাড়িয়েছে। কিন্তু ২০২১ সালের জুন মাসে সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনও কাজ শুরু হয়নি। সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. আলী আশরাফ বলেন, ‘আসলে এই সড়কটি নির্মাণে ফান্ড না থাকায় নির্মাণ কাজ শেষ করতে দেড়ি হচ্ছে। ফান্ড আনার চেষ্টা চলছে। খুব দ্রত সড়কটি নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।’
ওই সড়কে নিয়মিত মটরসাইকেল চালক আব্দুর রহমান বলেন, ‘এক বছরের বেশি সময় ধরে সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ। ধুলাবালুতে রাস্তায় (সড়ক) গাড়ি চালাতে কষ্ট হয়। একদিকে খানাখন্দ, আরেকদিকে ধুলা ওড়ে।’ চরযমুনা গ্রামের বাসিন্দা আল মামুন বলেন, ‘জনস্বার্থে সড়কটি দ্রæত নির্মাণ প্রয়োজন।’ শিক্ষার্থীরা বলছেন, এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় ধুলার অত্যাচারে তারা অতিষ্ঠ।
এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. মিজানুল কবির বলেন, ‘সড়কটি নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দুইবার সময় বাড়িয়েছেন। সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য বার বার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। ৪ ফেব্রæয়ারি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দ্রæত সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করবে।’