

প্রকাশিত
রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মরাজাঙ্গীর মৌজায় অবৈধ ঘের নির্মাণ এবং ইজারাকৃত চরলতা স্লুইজ গেট এর বৈধ খাল দখল করার অভিযোগ উঠেছে।
লিয়াকত হোসেন প্রিন্স সহ স্থানীয়দের দাবি, মো. বাহাদুর, মোঃ কামাল মুন্সি, মোঃ ইলিয়াস মুন্সি, কাওছার মৃধা মাহাবুলসহ মোঃ বাহাদুরের নেতৃত্বে
তারা সন্ত্রাসী কায়দায় ইজারাকৃত বৈধ খাল দখল করার বিভিন্ন প্রক্রিয়া চালায় এবং মরাজাঙ্গীর মৌজায় নদীতে রাস্তা করে অবৈধভাবে ঘের নির্মাণ করেছেন। চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের মূল দলের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ লিয়াকত হোসেন প্রিন্সসহ স্থানীয় লোকজনও অভিযোগ করে বলেন, মরাজাঙ্গীর মৌজায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ একর জমি নিয়ে একটি ঘের করা হয়েছে। এতে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ও জনসাধারণের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঘেরটি উন্মুক্ত থাকলে স্থানীয়রা ঐ জমিতে গবাদিপশু চরাতে পারবেন এবং নদীর অববাহিকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও ফিরে আসত বলে দাবি করেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, মরাজাঙ্গী মৌজার জমির ওপর রাস্তা ও ঘের নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা সরকারি অনুমোদন রয়েছে কি না। তাঁদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে ঘের ও রাস্তা নির্মাণের বৈধতা যাচাই করা হোক। যদি এসব কার্যক্রম অবৈধ হয়ে থাকে, তাহলে প্রশাসনের মাধ্যমে জায়গাটি দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরলতা এলাকার চরলতা সুইচগেট খাল নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। লিয়াকত হোসেন প্রিন্সসহ স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া ওই খালে চায়না জাল ও ঘেরজাল ব্যবহার করে মাছ ধরার কারণে বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ইজারাকৃত ওই খালে লিয়াকত হোসেন প্রিন্স বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। ফলে অনুমোদন ছাড়া মাছ ধরার কারণে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখে সামাজিক যোগাযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় জাকারিয়া হোসেন এর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি। অভিযোগগুলোকে তিনি ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে উল্লেখ করেন।
লিয়াকত হোসেন প্রিন্সসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সরকারি খাল, জমি ও জলাশয় নিয়ে কেউ যদি অবৈধভাবে দখল এবং ইজারাকৃত বৈধ খালে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে লিয়াকত হোসেন প্রিন্সসহ স্থানীয়রা রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন দ্রুত সরজমিনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, অবৈধ ঘের দখল বা প্রভাব বিস্তার বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে এলাকায় বিরোধ ও উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।