
প্রকাশিত,২৯, জানুয়ারি,২০২৩
ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ
গ্রেফতার এড়াতে নাম, বাবার নাম, ঠিকানা বদলে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেও বাঁচতে পারলেন না যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া এক আসামি। দীর্ঘ ১৭ বছর পালিয়ে থাকার পর অবশেষে তাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪।
২০০৬ সালের মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার চাঞ্চল্যকর শহিদুল আলম (৩৪) হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী সামসুল হক বেপারীর ছেলে আব্দুল কুদ্দুস (৪১) কে শ্রীপুরের বহেরার চালা এলাকা থেকে শনিবার বিকালে গ্রেফতার করা হয় বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে র্যাব।
উল্লেখ্য যে, ২০০৬ সালের মে মাসে অজ্ঞাতনামা আসামীরা মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানাধীন বেতুলিয়া গ্রামে শহিদুল আলম (৩৪) কে হত্যা করে, নিহত শহিদুল আলমের পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে তার মাথা কেটে নিয়ে অন্যত্র ফেলে দেয়। উক্ত ঘটনায় গত ২১/০৫/২০০৬ খ্রি. তারিখ মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার এসআই মোঃ আঃ জলিল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং- ০৪, তারিখ- ২১/০৫/২০০৬ খ্রি., ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড- ১৮৬০।
তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ৭ জনকে আসামী করে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। উক্ত মামলায় বিচার শেষে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত, মানিকগঞ্জ গত ০৫/১২/২০২১ খ্রিঃ তারিখ উক্ত আসামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ৫,০০০ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ০২ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করেন। মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই আসামী আব্দুল কুদ্দুস পলাতক ছিল।
র্যাব জানায়, আসামী আব্দুল কুদ্দুস গ্রেফতার এড়ানোর জন্য নিজের নাম, পিতার নাম, মাতার নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে আপন মামাতো ভাইয়ের নাম, পিতার নাম ও মাতার নাম ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দীর্ঘদিন যাবৎ গাজীপুর জেলার শ্রীপুর এলাকায় অবস্থান করে আত্মগোপনে ছিল। গাজীপুর জেলার শ্রীপুর এলাকায় উক্ত আসামী মামুনুর হোসেন, পিতা- রহম আলী নামে নিজেকে পরিচয় প্রদান করে এবং মামাতো ভাইয়ের সার্টিফিকেট ব্যবহার করে একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকুরী করে বসবাস করে আসছিল।
র্যাব আরোও জানায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করার নিমিত্তে নাগরপুর থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন।#