
প্রকাশিত
সুমন ইসলাম, রংপুর
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় রংপুরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রংপুর নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী (পার্থী) চক্রবর্তী এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো রংপুরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
তদন্তের অগ্রগতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে কাজ চলছে।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে রংপুরের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠনের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, “এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড রংপুরবাসী কখনও মেনে নেবে না। দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
সমাবেশ থেকে পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল আসামিদের গ্রেফতার ও হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং প্রয়োজনে রংপুর বিভাগব্যাপী কঠোর কর্মসূচি পালিত হবে।
রংপুর মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে একাধিক টিম কাজ করছে এবং খুব শিগগিরই তদন্তের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হবে।
নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে নিহতদের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে রংপুরবাসী।