
প্রকাশিত,০৫, জুলাই,২০২২
বিশেষ প্রতিনিধি ঃ
অদ্য ০৫/০৭/২০২২ খ্রিঃ সকাল অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার সময় ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানাধীন ০৩ নয় ওয়ার্ড, ভালুকা পৌরসভার চাপড়বাড়ী সাকিনস্থ বিবাদী আবু ইবনে মিরাজ খান (২৫) এর বাড়ী হতে অপহৃত ভিকটিম মাদ্রাসাছাত্রী সুমাইয়া আক্তার শিমু (১৫) কে উদ্ধার করে পিবিআই, ময়মনসিংহ।
ভিকটিম সুমাইয়া আক্তার শিমু (১৫), পিতা-মোঃ শিহাব উদ্দিন, সাং-চাপড়বাড়ী, থানা-ভালুকা, জেলা-ময়মনসিংহ ভালুকা থানাধীন চাপড়বাড়ী দাখিল মাদ্রাসায় ৮ম শ্রেণীতে লেখাপড়া করত। বিবাদী আবু ইবনে মিরাজ খান (২৫), পিতা-মোঃ রফিক, সাং-চাপড়বাড়ী, ৩নং ওয়ার্ড, ভালুকা পৌরসভা, থানা-ভালুকা, জেলা-ময়মনসিংহ ভিকটিমের পাড়া প্রতিবেশী।
ভিকটিম সুমাইয়া আক্তার শিমু মাদ্রাসায় আসা যাওয়ার পথে বিবাদী আবু ইবনে মিরাজ প্রায় তাকে উত্ত্যক্ত করত এবং প্রেম নিবেদন করত। ভিকটিম সুমাইয়া আক্তার শিমু উক্ত বিষয়টি তার মা মোছাঃ নাসিমা (৩৪) কে জানালে তিনি বিবাদী আবু ইবনে মিরাজের অভিভাবকগণের নিকট বিষয়টি জানায়। এতে বিবাদী আবু ইবনে মিরাজের অভিভাবকগণ ভিকটিম সুমাইয়া আক্তার শিমুর মায়ের কথায় কর্ণপাত না করে, তারা ভিকটিমের মাকে তাদের বাড়ী হতে তাড়িয়ে দেয়। এতে বিবাদী আবু ইবনে মিরাজ ক্ষুব্ধ হয়ে ভিকটিম সুমাইয়া আক্তার শিমুকে রাস্তাঘাটে প্রায় সময় হুমকি দিয়ে বলে যে, তাকে তুলে নিয়ে তার সর্বনাশ করবে। উক্ত ঘটনায় ভিকটিম সুমাইয়া আক্তার শিমু ভয় পেয়ে কিছুদিন মাদ্রাসায় যাওয়া আসা বন্ধ করে দেয়। ঘটনার ০২ দিন পূর্বে ভিকটিমের নানী অসুস্থ হওয়ায় ভিকটিম সুমাইয়া আক্তার শিমু তাকে দেখতে যায়। পরবর্তীতে ঘটনার তারিখ ও সময়ে অর্থাৎ গত ০৩/০৬/২০২২ খ্রিঃ বিকাল অনুমান ০৫.৩০ ঘটিকার সময় ভিকটিম সুমাইয়া আক্তার শিমু তার নানীর বাড়ী হতে নিজ বাড়ীতে আসার পথে ভালুকা থানাধীন মল্লিকবাড়ী রোড সংলগ্ন পৌছা মাত্রই পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা বিবাদী আবু ইবনে মিরাজ সহ তার সহযোগিরা একটি কালো গ্লাসে প্রাইভেটকারে ভিকটিম সুমাইয়া আক্তার শিমুকে জোরপূর্বক তুলে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। ভিকটিম সুমাইয়া আক্তার শিমু বাড়ীতে না ফেরায় তার মা মোছাঃ নাসিমা তার নানীকে ফোন করে খবর নিলে ভিকটিমের নানী জানায় ভিকটিম সুমাইয়া আক্তার শিমু অনেক আগেই তাদের বাড়ী হতে চলে গেছে। এরপর থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ ও খোঁজাখুজি করে কোথাও ভিকটিম সুমাইয়া আক্তার শিমুকে না পেয়ে ভিকটিমের মা মোছাঃ নাসিমা বাদী হয়ে বিবাদী আবু ইবনে মিরাজ সহ তার মা, তার ভাই, চাচাত ভাই ও বন্ধুর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ), নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইঃ, ময়মনসিংহে পিটিশন মামলা নং-৮৯/২০২২, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সং/০৩) এর ৭/৩০ বিজ্ঞ আদালতে দায়ের করেন।
অ্যাডিশনাল আইজিপি, পিবিআই জনাব বনজ কুমার মজুমদার, বিপিএম (বার), পিপিএম এর তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই ময়মনসিংহ ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার, জনাব গৌতম কুমার বিশ্বাস এর সার্বিক সহযোগিতায় মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ আজিমুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করেন।
পুলিশ সুপার, জনাব গৌতম কুমার বিশ্বাস এর দিক নির্দেশনায় ও তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভিকটিমের অবস্থান সনাক্ত পূর্বক অদ্য ০৫/০৭/২০২২ খ্রিঃ সকাল অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার সময় ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানাধীন ০৩ নয় ওয়ার্ড, ভালুকা পৌরসভার চাপড়বাড়ী সাকিনস্থ বিবাদী আবু ইবনে মিরাজ খান (২৫) এর বাড়ী হতে অপহৃত ভিকটিম মাদ্রাসাছাত্রী সুমাইয়া আক্তার শিমু (১৫) কে উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে পিবিআই, ময়মনসিংহ জেলার এসপি জনাব গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মাদ্রাসাছাত্রী অপহরণের ঘটনা। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে গত ০৩/০৭/২০২২ তারিখে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই ময়মনসিংহ জেলাকে প্রদান করা হলে পিবিআই কর্তৃক অত্র মামলার ভিকটিম সুমাইয়া আক্তার শিমুকে উদ্ধারের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।
এক পর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অদ্য ০৫/০৭/২০২২ খ্রিঃ সকাল অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার সময় ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানাধীন ০৩ নয় ওয়ার্ড, ভালুকা পৌরসভার চাপড়বাড়ী সাকিনস্থ বিবাদী আবু ইবনে মিরাজ খান (২৫) এর বাড়ী হতে অপহৃত ভিকটিম মাদ্রাসাছাত্রী সুমাইয়া আক্তার শিমু (১৫) কে উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, ভিকটিম সুমাইয়া আক্তার শিমু চাপড়বাড়ী দাখিল মাদ্রাসায় ৮ম শ্রেণীতে লেখাপড়া করত। ভিকটিম সুমাইয়া আক্তার শিমু মাদ্রাসায় আসা যাওয়ার পথে বিবাদী আবু ইবনে মিরাজ তাকে প্রায় সময় উত্ত্যক্ত করত।
গত ০৩/০৬/২০২২ খ্রিঃ ভিকটিম সুমাইয়া আক্তার শিমু তার নানার বাড়ী হতে নিজ বাড়ীতে আসার পথে মল্লিকবাড়ী ব্রীজের নিকট পৌছা মাত্র বিবাদী আবু ইবনে মিরাজ একটি কালো রংয়ের প্রাইভেটকার নিয়ে এসে ভিকটিম সুমাইয়া আক্তার শিমুকে জোরপূর্বক প্রাইভেটকারে তুলে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ১০/১৫ দিন রাখার পর বিবাদী আবু ইবনে মিরাজ ভিকটিম সুমাইয়া আক্তার শিমুকে তার নিজ বাড়ীতে নিয়ে আসে।
অদ্য ০৫/০৭/২০২২ খ্রিঃ উদ্ধারকৃত ভিকটিম সুমাইয়া আক্তার শিমু (১৫) কে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হলে সে স্বেচ্ছায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সং/০৩) এর ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।
০১। মোঃ আজিমুল ইসলাম, তদন্তকারী কর্মকর্তা, উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ)। মোবাঃ ০১৭২৬৬৭০৫২২
০২। জনাব গৌতম কুমার বিশ্বাস, পুলিশ সুপার, পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা। মোবাঃ ০১৩২০০২৯১৭০
(গৌতম কুমার বিশ্বাস)
বিপি৭৮০৬১১৭০৮১
পুলিশ সুপার
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)
ময়মনসিংহ জেলা।
মোবাঃ +৮৮০১৩২০০২৯১৭০
ই-মেইলঃ [email protected]