
প্রকাশিত
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার মুরাদনগরের পাহাড়পুর ইউনিয়ন আজ ভয়ঙ্কর মাদক সন্ত্রাস ও দাপটের কবলে। সাধারণ জীবন ব্যাহত, মানুষ নিরাপদে ঘুমাতে পারছে না, শিশুরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে ভয় পাচ্ছে, আর কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। অভিযোগের মূল কেন্দ্রস্থল প্রভাবশালী আব্দুল আলীম এবং তার পরিবার।
ভুক্তভোগী খলিল মিয়া জানিয়েছেন, ২৩ আগস্ট ২০২৫ তারিখ সকাল সাড়ে ৭টায় আব্দুল আলীম তার ওপর আকস্মিক হামলা চালান। এলোপাতাড়ি ঘুষি-মারধরের পাশাপাশি লাঠি দিয়ে তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। পরে আলীমের ছেলেরা—সোহেল মিয়া, আরিফ মিয়া, মনু মিয়া ও শরিফ মিয়া—মিলে খলিল মিয়ার চাচার বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। ঘটনায় দাপটের সঙ্গে জড়িত ছিলেন আলীমের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার। হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে খলিল মিয়া বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
ক্ষুব্ধ কণ্ঠে খলিল মিয়া বলেন, "আমি আর আমার পরিবার নিরাপদ নই। যে সাহস আমাদের আছে, তা ধীরে ধীরে ভেঙে গেছে। প্রতিবাদ করলে তারা হামলা চালায়, পুলিশকে বললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই।"
মাত্র এক বছর আগে, ১৭ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে একটি স্থানীয় সালিশ বৈঠকে আব্দুল আলীম প্রকাশ আলী আহাম্মদ লিখিতভাবে স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি দীর্ঘদিন মাদক ব্যবসা, নেশা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আর কখনো এমন কাজে লিপ্ত হবেন না। কিন্তু আজ সেই অঙ্গীকার কেবল কাগজে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আলীমের চার ছেলে সোহেল মিয়া, আরিফ মিয়া, মনু মিয়া ও শরিফ মিয়া এবং স্ত্রী রাবেয়া আক্তার এলাকায় দাপট দেখাচ্ছে, মাদক বিক্রি চালাচ্ছে এবং ভিন্নমত পোষণকারীদের উপর দমননীতি প্রয়োগ করছে।
গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, "আমাদের সন্তানরা মাদকের ফাঁদে পড়ছে। কিছু বলার চেষ্টা করলে তাদের ছেলেরা হামলা করে। পুলিশকে জানাই, তবুও কার্যকর কিছু হয় না।"
এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, গত কয়েক মাসে ঘটে যাওয়া বাঙ্গরা ট্রিপল মার্ডার কেস এখনও সতর্কবার্তা হিসেবে রয়ে গেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, যদি এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, একই ধরনের প্রাণহানির ঘটনা যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে।
এলাকাবাসী নিরাপত্তা ও আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য গণস্বাক্ষর সম্বলিত একটি অভিযোগপত্র গতকাল সোমবার (২৫আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দাখিল করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, শুধু অভিযোগ গ্রহণ যথেষ্ট নয়; অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পুরো ইউনিয়ন দাপটময় দুর্বৃত্তদের কবলে পড়বে।
মুরাদনগর থানার ওসি জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে আব্দুল আলীম বলেন, "আগে মাদক ব্যবসা করতাম সত্যি কথা। এইতো দশ-পনেরো দিন হলো মাদক ব্যবসা করি না আর।"
তবে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, শুধু দাবি বা কথার ওপর ভর করে এই দাপটময় দুর্বৃত্তদের রুখা সম্ভব নয়। শিশু ও তরুণদের জন্য মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, প্রভাবশালী দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।