মুরাদনগরে এনজিও ঋণের প্রায় ৪০লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে পলাতক খুকুমনি


দেশ সময় প্রকাশের সময় : ২০২৫-০৮-২৯, ৬:২৪ অপরাহ্ন /
মুরাদনগরে এনজিও ঋণের প্রায় ৪০লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে পলাতক খুকুমনি
print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

মুরাদনগর (কুমিল্লা) থেকে:

কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার বাঙ্গরা গ্রামের বাসিন্দা খুকুমনি। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ নারীদের প্রলোভন দেখিয়ে ও ভুলভাল বোঝানোর মাধ্যমে স্বাক্ষর নিয়ে বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি ঋণ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী নারীদের মধ্যে সেলিনা বেগম, সুমি আক্তার, জান্মান, নাহিদা, তানিয়া, রেহেনা, আসমা, সুহেদা সহ অসংখ্য নারী রয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, “সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে খুকুমনি আমাদের দিয়ে স্বাক্ষর করিয়েছে। এখন সে টাকা পরিশোধ না করে পালিয়ে গেছে।”

ভুক্তভোগী নারীরা জানিয়েছেন, খুকুমনি শুরুতে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলেও বর্তমানে কিস্তির টাকা শোধ না করে গা-ঢাকা দিয়েছে। এ ঘটনায় মহিলাদের পরিবারে ভয়াবহ অশান্তি নেমে এসেছে। অনেক নারী স্বামীকে না জানিয়ে ঋণের কাগজে স্বাক্ষর করেছিলেন। এখন এনজিও কর্মকর্তারা টাকা উদ্ধারে চাপ সৃষ্টি করায় সংসারে ভাঙন ধরছে, সৃষ্টি হচ্ছে পারিবারিক কলহ। কিস্তির টাকার চিন্তায় ভুক্তভোগী সেলিনা বেগম প্রচণ্ড বুক ব্যথায় হাসপাতালে ভর্তি।

শুধু এনজিও ঋণই নয়, গ্রামের বহু মানুষের কাছ থেকেও খুকুমনি ব্যক্তিগতভাবে টাকা ধার নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান, খুকুমনি তার কাছ থেকে এক মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার শর্তে নগদ ও বিকাশে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন, কিন্তু এখনো তা ফেরত দেননি।

অভিযুক্ত খুকুমনি টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করে জানান, “আমি কাউকে জোর করিনি। তারা নিজেরাই আমাকে টাকা তুলে দিয়েছে, আমি নিয়েছি। বর্তমানে পরিবারের টাকার সংকটে আছি, তাই কিস্তির টাকা শোধ করতে পারছি না। সবাই টাকার জন্য চাপ দেয়, তাই আমি পালিয়ে গেছি।”

ব্র্যাক ব্যাংক, সাজেদা, সৃদীপ, শক্তি, আমপালা, উদ্দীপন, টিএসএস, পল্লীমঙ্গল, বুলু, গ্রামীণ ব্যাংক, আশা ব্যাংক, রুদ্র বাংলা সহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের ঋণের দায়ভার এখন ভুক্তভোগী নারীদের ঘাড়ে এসে পড়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এনজিও কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযুক্ত খুকুমনির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।