
প্রকাশিত, ১৫-১২-২০২০
সজীব সরকার, মুক্তাগাছা প্রতিনিধিঃ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ প্রকল্প বাস্ত বায়নের জন্য যাদের ঘর নেই ও জমি নেই এদের জন্য প্রথম পর্যায় ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ৫০ টি বাড়ি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।
এরই প্রেক্ষিতে মুক্তাগাছা উপজেলার সকল ইউনিয়নে ভূমিহীনদের জন্য গৃহনির্মাণের লক্ষে সরকারি খাস জমি দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে উপজেলা প্রশাসন (ভুমি)।
আজ মুক্তাগাছা উপজেলার মণ্ডলসেন এলাকায় এলাকার এলাকাবাসী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ সদস্যর সাথে নিয়ে এসিল্যান্ড মাসুদ রানার অভিযানে সরকারি খাসজমিতে স্থাপনা সরানো হয়৷
এসিল্যান্ড মাসুদ রানা জানান স্থাপনাটি মণ্ডলসেন মৌজার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক, ময়মনসিংহ মহোদয়ের নামে ১ নং খাস খতিয়ানের ৩১০৪ দাগে ১০ শতাংশ জমি রেকর্ড প্রচারিত।
তিনি আরও জানান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মান প্রলল্পের আওতায় ঘর নির্মাণের জন্য দখলকৃত জায়গা থেকে স্থাপনা উচ্ছেদ করে জমি প্রস্তুত করা হল।
তিনি এলাকার সকলকে এই কাজে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য যে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের লাঙ্গুলিয়া গ্রামের মৌজায় ৫৭০৩ দাগে ১২ শতাংশ জায়গা ১ নং খাস খতিয়ান ভুক্ত পুরাতন একটি কালীমন্দিরের পাশে জমিটিতে ৪টি বাড়ি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
গত শনিবার দিবাগত রাতে কে বা কারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি খাস জায়গায় নতুন করে একটি ঘর নির্মাণ করে এবং ঘরের ভেতরে একটি মূর্তি রেখে দেয়। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ঘরটি ভেঙ্গে দেন এবং মূর্তিটিকে পাশের একটি মন্দিরে অক্ষত অবস্থায় রেখে দেন।
এ ঘটনার পর পরই হিন্দু সম্প্রদায়ের সুবিধাবাদী দখলবাজ কিছু লোক উগ্রবাদী এবং সাম্প্রদায়িক আচরণ শুরু করেন। তারা উক্ত জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহ নির্মাণ করতে দিবেন না বলে মিছিল করতে শুরু করেন। এ ঘটনায় রোববার রাতে মুক্তাগাছা থানা ও স্থানীয় প্রেসক্লাবে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায় হাজির হয়ে এর বিচার দাবি করেন।
মন্দির কমিটির সভাপতি কানাই লাল চক্রবর্তী বলেন, মন্দিরের জায়গায় জোরপূর্বক উপজেলা প্রশাসন বাড়ি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি তাদের মন্দির ভাংচুর করে কমিটির লোকজনকে হেনস্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে মুক্তাগাছার ইউএনও আব্দুল্লাহ আল মনসুর বলেন, মন্দিরের নির্ধারিত জায়গা বাদ দিয়ে সরকারি খাস খতিয়ানের জায়গাতেই প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে। মন্দিরের কোনো মুর্তি ভাঙ্গা হয়নি, শুধু মূর্তি সরিয়ে পুরাতন মন্দিরে রাখা হয়েছে।
তাদের এ আচরণকে মুক্তাগাছার অসাম্প্রদায়িক জনগণ ঘৃণার চোখে দেখছেন। এদিকে অভিযুক্ত উগ্রবাদী হিন্দু সম্প্রদায়ের এসব ভূমি দস্যুরা সরকারী জমি জবর দখলে ব্যর্থ হয়ে উপজেলা প্রেসক্লাবে প্রশাসনকে দোষী করে সাজানো সংবাদ সম্মেলন করায় স্থানীয়দের মাঝে বিষয়টি ধর্মের নাম ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহার বলেও ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।