
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে মরহুম আব্দুল খালেক মিয়া ছিলেন এক সুপরিচিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার মাধ্যমে তিনি নিজেকে একটি অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল খালেক মিয়া। ছোটবেলা থেকেই তিনি সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আগ্রহী ছিলেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তিনি ৪নং পানপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া গলাচিপা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর নানা উদ্যোগ আজও অনেকের স্মৃতিতে অম্লান।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন সমাজসেবক। গলাচিপার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এলাকার শিক্ষার প্রসার, সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং দরিদ্র মানুষের কল্যাণে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আব্দুল খালেক মিয়া ছিলেন একজন সহজ-সরল, সৎ ও জনবান্ধব নেতা। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যে কোনো দুর্যোগ কিংবা সংকটে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়াতেন।
পারিবারিক জীবনেও তিনি ছিলেন একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক। তাঁর কন্যা খায়রুন নাহার লিপি পেশায় একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁর দুই পুত্রের মধ্যে মো. শামীম রেজা একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় পরিচিত এবং কনিষ্ঠ পুত্র মু. ইফতেখার মাহমুদ সজিব চাকরিজীবী। পরিবারের সদস্যরা আজও তাঁর আদর্শ, মূল্যবোধ ও জনসেবার চেতনাকে ধারণ করে চলেছেন।
মরহুম আব্দুল খালেক মিয়ার মৃত্যুতে গলাচিপার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর কর্মময় জীবন, নেতৃত্বগুণ এবং জনসেবার অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। গলাচিপার রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর নাম একজন জননেতা ও সমাজহিতৈষী হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।