‎মাটিরাঙ্গায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও  চাঁদা দাবি, ‎আসামীকে বাচানোর চেষ্টা বিএনপি নেতার ‎


দেশ সময় প্রকাশের সময় : ২০২৬-০২-২৩, ২:১১ অপরাহ্ন /
‎মাটিরাঙ্গায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও  চাঁদা দাবি, ‎আসামীকে বাচানোর চেষ্টা বিএনপি নেতার ‎
print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

‎খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ

‎খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় সাপমারা এলাকায় ১৯ ফেব্রুয়ারী (বৃহস্পতিবার) রাতে জান্নাতুল ফেরদৌস (১৬) নামক এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমত ছড়িয়ে পড়েছে। জান্নাতুল ফেরদৌস মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড নবীনগর এলাকার আব্দুর রশিদের মেয়ে।

‎জন্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এর সাথে একই এলাকর আবুল কালাম এর ছেলে শাহাদাতের প্রেমের সম্পর্ক আছে। তারা দুজন সন্ধ্যায় মাটিরাঙ্গা বাজারে মাহী হোটেলে নাস্তা করতে বসে। নাস্তা শেষে মেয়েটি তার প্রেমিক শাহাদাতকে বলে তার বাবা অসুস্থ সে তার বাড়িতে যাবে সেখান থেকে তার বাবাকে খাগড়াছড়ি হসপিটালে দেখতে যাবে। তারা একটি অটোরিকশায় উঠে। পথিমধ্যে নতুনপাড়া গেলে অটোরিকশা নস্ট হয়ে যায়। পেছন থেকে বাদশা মিয়ার  ভাই বাহার মিয়ার ছেলে রাসেল ফলো করে তাদের পিছু নেয় এবং অটোরিকশা নস্ট হয়ে গেলে রাসেল তাদের দুজনকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে তাদেরকে সাপমারা নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। রাসেল সেখানে তার আরও ২/৩ জন বন্ধুকে ডেকে আনে। সেখানে নিয়ে তাদেরকে ছুরি দেখিয়ে জঙ্গলে নিয়ে মেয়েটিকে টেনে হিচড়ে ধর্ষন করার জন্য পোশাক খুলে ফেলে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। একপর্যায়ে মেয়েটি তাদের হাতে পায়ে ধরে মাফ চাইতে থাকলে রাসেল বলে তোদের ফ্যামিলিতে কল দিয়ে ১লক্ষ টাকা পাঠাতে বল আর বলবি আমাদের ভিতর পার্টি (পাহাড়ি অস্ত্রধারী সংগঠন) ধরেছে আর না হয় তাদের মেরে পানিতে ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেয় রাসেল ও তার বন্ধুরা। মেয়েটিকে তারা শরীরে হাত দিলে তারা চিৎকার করলে আশেপাশে জনগন শুনতে পারবে তাই তারা তাদের উলঙ্গ ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে তাদের ছেড়ে দেয়। তারা এলাকায় এসে মেয়ের মাকে ঘটনা জনালে মেয়ের মা নতুন পাড়া সমাজের ধনমিয়াকে জানায়।  ধনমিয়া ঘটনাটি রাসেলের চাচা বাদশা মিয়াকে জানালে বাদশা মিয়া তার ভাতিজাকে ৫টি বেতের বারি দিয়ে ছেড়ে দেয় এবং তার ভাতিজকে নির্দোষ প্রমান করার জন্য তাদেরকে বিভিন্ন রকম গালিগালাজ দেয়  এবং আগামীকাল তাদের বিয়ে দিবে বলে অসহায় মেয়েটি মাকে ভয় দেখিয়ে মেয়েটিকে রাতে  শাহাদাত এর পরিবারের কাছে তুলে দেয়। শাহাদাত সেই রাতে মেয়েটিকে একাধিকবার  মেলামেশা করে। সকালে ছেলের পরিবার বাদশা মিয়ার পরামর্শক্রমে সুকৌশলে শাহাদাতকে এলাকা থেকে পাঠিয়ে দেয় এবং মেয়েটিকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে তার তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
‎বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বাদশা মিয়া মেয়ের মা কে থানায় নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সাদাকাগজে স্বাক্ষর নেই। মেয়ের মা নিরুপায় হয়ে সুষ্ঠু বিচারের জন্য এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তি ও সাংবাদিককে জানালে বাদশা মিয়া সেখানেও তাদের হুমকি দেয় এবং তার ভাতিজা রাসেলকে নির্দোষ প্রমান করার জন্য নানা ধরণের চক্রান্তা সাজানোর চেষ্টা করে। পরবর্তীতে মেয়েটিকে আবারও কোন প্রকার বিবাহ ছাড় ছেলের বাবার হাতে তুলে দেয়।

‎মেয়েটির মা সুষ্ঠু বিচারের জন্য থানায় গেলে সেখানেও বাদশা মিয়া সুকৌশলে অভিযোগ দায়ের করতে দেয়নি।

‎বিষয়টি সমাজে ছড়িয়ে পড়লে এলাবাসী ও সমাজের সচেতন জনগন বাদশা মিয়ার ভাতিজা রাসেল এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি ও মেয়েটির একটি নিশ্চিত ভবিষ্যত দাবি করে।

‎মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ বলেন এঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।   তদন্ত সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।