
প্রকাশিত
ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের একটি লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগার পর ঘন ধোঁয়া বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়লে অনেক রোগী ও স্বজন তড়িঘড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসেন।
এ সময় হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কিতে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের একটি অচল লিফটের কন্ট্রোল রুমে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি স্টেশনের ১০টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে লিফট কন্ট্রোল রুমের কন্ট্রোলার মেশিনের সঙ্গে থাকা বৈদ্যুতিক বোর্ডে শর্টসার্কিট থেকে অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টি হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, আগুনের ব্যাপ্তি সীমিত হলেও কন্ট্রোল রুম থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ১০টি ইউনিট মোতায়েন করা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর অতিরিক্ত ইউনিটগুলো প্রত্যাহার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধোঁয়া দেখতে পেয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অবস্থানরত রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে রোগীদের নিয়ে সিঁড়ি ব্যবহার করে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করেন। এ সময় কিছু স্থানে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন সুমিত সরকার বলেন, “হঠাৎ আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। রোগীদের নিয়ে দ্রুত নিচে নামার সময় অনেকের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে, এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।”
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, যে লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লেগেছে সেটি সচল ছিল না। তবে পাশের অন্যান্য লিফট চালু ছিল। ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার কারণে রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে দু-একজন আহত হয়ে থাকতে পারেন। তবে সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোরও কোনো ক্ষতি হয়নি।
তিনি আরও জানান, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর রোগীদের নিজ নিজ ওয়ার্ডে ফিরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি একই হাসপাতালের নতুন ভবনের ষষ্ঠ তলার শিশু ওয়ার্ডসংলগ্ন একটি গুদামঘরেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেবারও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।