
প্রকাশিত,০৭, সেপ্টেম্বর,২০২১
এস এম তারেক,মেহেরপুরঃ
বইয়ের ব্যাগ পিঠে নিয়ে যারা এক সময় স্কুলে যেত, তারা অনেকেই এখন যায় রাজমিস্ত্রির যোগালি দিতে। কেউ কোউ বাবার সাথে যুক্ত হয়েছে কৃষি কাজে। অভাব অনটনের সংসারে কিছুটা হাল ধরেছিলো স্কুল কলেজে পড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থী।
তবে মনে ছিল না শান্তি। পড়াশোনার মতো তারা কাজের মধ্যে পায়নি তৃপ্তি।
দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গত বছরের মার্চে হঠাৎ করে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায় স্কুল,কলেজ-সহ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকায় দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে ছুটি।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে বলে জানিয়েছে শিক্ষামন্ত্রী। বড় কোন সমস্যা না হলে আর ছুটি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের। এই আনন্দে দিন গুনছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তরিকুল বলে,'স্কুল বন্ধ থাকায় শুধু শুধু বসে না থেকে কাজ করেছি।আজ খুলবে কাল খুলবে এমন আশা ছিল কিন্ত অনেক দিন হয়েছে তাও স্কুল খুলেনি।এখন শুনছি ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খুলবে। স্কুল খুলবে শুনে মনের মাঝে অন্যরকম আনন্দ হচ্ছে।'
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুবায়া তাসনিম বলে,'আমাদের মনের মধ্যে নাড়া দিচ্ছে স্কুল খুলবে শুনে। অনেক দিন স্কুলে যায়নি।প্রিয় স্যার-ম্যাডামদের মুখ দেখিনি।ছাত্রজীবনের সুন্দর সময় স্কুল জীবন যেটায় আমাদের অনেক ঘাটতি হয়ে গেছে লকডাউনের জন্য।'
অভিবাবক শহিদুল ইসলাম বলেন,'ছেলে-মেয়েদের অনেক ক্ষতি হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায়।এখন যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে ছেলে-মেয়েদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে হবে।'
গাংনী উপজেলার এইচ.বি.মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী-শিক্ষক ইয়ারুল ইসলাম (বিএসসি) বলেন,'শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারী দের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে জনশূন্য। অধ্যাবসায়ের জন্য শেষ্ঠ জীবন ছাত্রজীবন কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।দীর্ঘদিন পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে জেনে মনের মধ্যে আনন্দে স্পন্দন হচ্ছে।'
দীর্ঘ-সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মোবাইলে আসক্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিবন্ধীর মতো হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক বায়েজিদ বোস্তামী।
তিনি বলেন,একজন মানুষকে নীতি-নৈতিকতা শেখাতে আগ্রণী ভূমিকা পালন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের অনেক-ক্ষেত্রে নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটেছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার মধ্যে থাকলে তাদের দমবন্ধতা কাটবে।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে আরো বলেন,'প্রত্যকটা পেশায় সম্মানের।দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেকেই শিক্ষক'দের কুটুক্তি করছে ঘরে বসে বেতন নেওয়ার জন্য। এর জন্য মনের ভিতর থেকে খুব দুঃখ হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে এই দুঃখের অবসান ঘটবে।'