
প্রকাশিত,২৩, ফেব্রুয়ারি,২০২২
মধুপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ
গ্রাহকের উপর নানা ভাবে হয়রানি ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর পল্লী বিদ্যুৎঅফিসের হাজার হাজার গ্রাহক থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে ভুতুড়ে বিল দিয়ে গ্রাহক হয়রানি চরমে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।
এ নিয়ে মধুপুর জোনাল অফিসে প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের ভিড় লেগেই আছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগে জানা গেছে, মধুপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস গ্রাহক সেবা মুখে বলে, মিটার না দেখে অতিরিক্ত ও ভুয়া বিল দালালের মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুতের সকল কার্যক্রম, মিটার সংযোগ, মিটার পরিবর্তন, ট্রান্সমিটার পরিবর্তন, নতুন লাইন সংযোগ, উপকরণ সংগ্রহ, মিটার আবেদন, অভিযোগ দাখিল, বিল পরিবর্তন, খুঁটি স্থানান্তর সহ ইত্যকার বিষয়াদি নিয়ে মধুপুর পল্লী বিদ্যুতের লোকজনের কাছে গ্রাহকরা জিম্মি হয়ে আছে।
এ ব্যপারে গ্রাহকদের প্রতিকারের কোন ভাষা নেই। গ্রাহকদের এত বিষয়ে অফিসে কোন অভিযোগ করলে অভিযোগকারীকে উল্টো নতুন ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। সূত্রে জানা গেছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার দেখে বিল করার নিয়ম থাকলে ও এক্ষেত্রে প্রায় ৭০% মিটার রিডারগন মিটার না দেখে রাস্তার উপর কিংবা বাড়ির পাশে/বাসার পাশের দোকানে কিংবা হাটে-বাজারে আন্দাজে বিল তৈরি করছে প্রতিমাসে। ঐ বিল অফিসে সাবমিট করে অফিস থেকে মুদ্রিত বিল লোক মারফতে গ্রাহকের নিকট বিলি করে। এমতাবস্থায় বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও হয়রানির শিকার হচ্ছে গ্রাহকরা। উক্ত বিল পরিশোধ করতে গ্রাহককে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের মধুপুর শাখায় লেফ-রাইট করতে করতে সে গ্রাহক চরম ভোগান্তি হজম করতে হয়েছে। এতদ বিষয়ে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পায়নি। উল্টো বাড়তি গাল-মন্দ শুনতে হয়েছে এ গ্রাহককে। গ্রাহকরা জানতে চায় এটাই কি পল্লী বিদ্যুৎ এর গ্রাহক সেবা? এরকম শত শত অভিযোগ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের গ্রাহকদের। উল্লেখ্য সকল অফিসে নামমাত্র অভিযোগ বাক্স বাসানো হলেও এ সকল বাক্স মাস তো দুরে থাক, বছরেও তালা খুলে না এ সকল অভিযোগ বাক্সের। দিন যত যাচ্ছে, পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অভিযোগের পাহাড় সৃষ্টি হচ্ছে। জানা গেছে, মিটার পরিবর্তন কিংবা নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করে ৬ মাসেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় না।
অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের ওয়্যারিং থাকার পরও অফিস তার রিপোর্ট নেয় না। অথচ পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান কিংবা ইলেকট্রিসিয়ান অথবা দালালকে ২/৩ হাজার টাকা দিলে ২৪ ঘন্টার মাঝে ‘কামসারা’। এসকল অনিয়ম আজ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের নিয়মে পরিণত হয়েছে। এদিকে পল্লী বিদ্যুতের সাথে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু কর্মকর্তা, কর্মচারী ও গ্রাহকরা জানিয়েছেন-বাড়ী, ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক, দাতব্য প্রতিষ্ঠান, সেচ কার্য ও অস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করে যাবতীয় সই/স্বাক্ষর নিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দেয়া কাগজ পত্রের সাথে নগদ টাকা পয়সা নেয়ার পরেও তাহা দীর্ঘদিনেও কার্য সাধন হয় না বলে গ্রাহকদের অভিযোগ। এদিকে একাধিক ইলেকট্রিশিয়ানের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৫ শতাধিক নতুন সংযোগের ওয়্যারিং সহ সকল কাগজপত্র প্রস্তুত থাকা সত্তেও সংযোগ আবেদন ডিজিএম এর স্বাক্ষরের জন্য ঝুলে আছে।
এছাড়া বিদ্যুৎ বিলের অপর পৃষ্ঠায় বর্ণিত নিয়ামাবলী বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকে পাওনা আদায়ের শতভাগ চেষ্টা কিন্তু গ্রাহক সুবিধা পাওয়ার দিক থেকে তাহা মোটেও না। সূত্রে আরও জানা গেছে, মধুপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস এর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, মধুপুরে শতভাগ বিদ্যুৎ ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে বাহবা কুড়ানোর জন্য এবং মধুপুরের লক্ষাধিক গ্রাহক থেকে ভুয়া বিদ্যুৎ বিল তৈরি করে মোটা অংকের অতিরিক্ত অর্থ কালেকশন দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে তিনি শ্রেষ্ঠ জি এম এর সনদ ও পুরস্কারের আশায় ডিজিএম আবু মোহাম্মদ ইয়াহিয়া আকন্দ এই কুট কৌশল গ্রহণ করেছেন। গ্রাহকদের উপর এরকম হয়রানি এ যেন ‘পরের ধনে পোদ্দারী’!
মধুপুরের সচেতন মহল পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক হয়রানীর বিষয়টি আমলে নেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন। পল্লী বিদ্যুতের নানা অনিয়ম, গ্রাহক হয়রানি, দুর্ণীতি ও ভোগান্তি বিষয়ে মধুপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আবু মোহাম্মদ ইয়াহিয়া আকন্দ এর সাথে আলাপ করতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার অযুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান।