
প্রকাশিত,০৫ , এপ্রিল,২০২২
রায়হান হোসাইন, চট্টগ্রামঃ-
‘আমরা আমাদের সাধ্যমত সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আগামী দিনে কি হয় সেটার আশায় আছি। আসল চ্যালেঞ্জ সেখানেই।’— রমজানে যানজটের তিন দিনের সরেজমিন পর্যবেক্ষণ শেষে যানজট পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে এমনটাই বললেন সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। পুলিশ কমিশনারের কথার রেশ পাওয়া পাওয়া যায় তার অধীনস্থ ট্রাফিক বিভাগ সামলানো কর্মকর্তাদের কন্ঠেও।
রমজান মাস এলেই বাড়ে যানবাহনের চাপ, বাড়ে মানুষের চলাচল। তাতে নির্দিষ্ট মাপের সড়কের ওপর পড়ে বাড়তি চাপ। ফলে যানজট কিংবা যানবাহনের ধীর গতিতে রুদ্ধ হয় রাজপথ। তাতে ইফতার কেন্দ্রীক যানজটে নাকাল হয় নগরবাসী। প্রতি বছরের চিত্র এমন হলেও এবার সামনের অবস্থা আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা খোদ সিএমপির ট্রাফিক বিভাগেরই। ইতোমধ্যে ট্রাফিক বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত রাতদিন পালা করে সড়কে নিরলস কাজ করছেন ট্রাফিক জ্যাম নিরসনে। এরপরও কোথাও কোথাও সকালে, দুপুরে কিংবা ইফতারের সময় যানজট হচ্ছেই হচ্ছে।
রমজানের প্রথম দিন থেকে চট্টগ্রাম নগরের প্রধান সড়কগুলোর মোড়ে মোড়ে কিছুক্ষণের জন্য হলেও যানজটে জনজীবন স্থবির হয়ে পডছে। বিশেষ করে যানবাহনের বাড়তি চাপের কারণে সিগন্যাল পার হতে ১০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগছে। এই চাপ অনেক দূর পর্যন্ত গিয়ে ঠেকছে। ফলে রমজান আর চৈত্রের তীব্র গরমে যানজটে আটকা পড়ে নাকাল হচ্ছে মানুষ। এই চাপটা দশ রমজানের পর আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা ট্রাফিক বিভাগের। সেজন্য তারা বেশ কিছু উদ্যোগের পাশাপাশি বাড়তি ফোর্সও মোতায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতো কিছুর পরও নির্দিষ্ট পরিমাণ সড়কে বাড়তি যানবাহনের পাশাপাশি নগরমুখী বাড়তি মানুষের চাপ সামলাতে পারবে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ট্রাফিক পুলিশের সরল স্বীকারোক্তি হলো— রমজান মাসে সাধারণ যানবাহন ও মানুষের চাপ বেশি থাকে অন্য সময়ের তুলনায়। এবার তাদের সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে নতুন দুটি জিনিস। প্রথমত, আগের রমজান মাসে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকলেও এবার ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকছে। ফলে সকালে ও দুপুরের দিকে স্কুল-কলেজ কেন্দ্রীক যানজটটা নতুন করে সৃষ্টি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সিটি করপোরেশন ও সিডিএ’র নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় সড়ক অনেকটাই সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে এসব কারণে কোথাও কোথাও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।