প্রকাশিত,২৬, সেপ্টেম্বর,২০২১
স্টাফ রিপোর্টার ঃ।
সারাদেশে শিক্ষা খাতে ব্যপক অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজমিরীগঞ্জ উপজেলার মোট ৬৬ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। উক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহে বিগত ৩ বছরে অর্থাৎ ২০১৮-১৯, ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে বিভিন্ন কাজের বিপরীতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেয় শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প। এরমধ্যে কোন বিদ্যালয়ে আংশিক আবার কোন বিদ্যালয়ে নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দকৃত সমূদয় অর্থ উত্তোলন করে সংশ্লিষ্টরা। স্ব স্ব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির যৌথ স্বাক্ষরে বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলনের বিধান রয়েছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে অবহিত না করে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে মনগড়াভাবে নানা উপকরণ ক্রয় করে। পর বিভিন্ন ভাউচারে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। অথচ কি ধরণের উপকরণ কত টাকায় ক্রয় করা হয়েছে বা কি কাজ করা হয়েছে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি না জেনেই স্বাক্ষর করে দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পের অধীনে ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয় শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প। কিন্তু উক্ত বিদ্যালয়ে স্লীপ প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার টাকায় ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পের কাজ করে ২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক। আবার স্লীপ প্রকল্প কর্তৃক বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার টাকা পেয়ে, উপজেলা শিক্ষা অফিসে দাখিলকৃত ভাউচারে দেখা যায়, শিক্ষা উপকরণ ক্রয় বাবদ ১টি কলম ও ১টি খাতার প্রতিটির ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৩০ টাকা করে মোট- ৬০ টাকা। এ ছাড়া ১টি ফুটবল ও ১টি কেরামের প্রতিটির ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ১৩৫০ টাকা করে মোট- ২৭০০ টাকা। আবার ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পের অধীনে কিছু বিদ্যালয়ে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। অথচ দৃশ্যমান কোন কাজই করা হয়নি। তাই ধারনা করা হচ্ছে বরাদ্দকৃত অর্থের বিপরীতে অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দূর্নীতি হয়েছে। এদিকে সম্প্রতি আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ৬৬ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯, ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে অর্থাৎ মোট ৩ বছরের বরাদ্দকৃত প্রয়োজনীয় অর্থের বিপরীতে, প্রাক প্রাথমিক, ওয়শব্লক, রুটিন মেরামত, ক্ষুদ্র মেরামত ও স্লীপ অনুদান দ্বারা কি কি কাজ করা হয়েছে, জানতে চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। তাই উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবরে দাখিল করার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক ক্ষুদ্র মেরামত, রুটিন মেইনটেন্যান্স, স্লীপ, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণ ও উপকরণ ক্রয় বাবদ অর্থ ব্যয় প্রসঙ্গে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ০৬ মে ২০১৯। প্রাথমিকের ক্ষুদ্র মেরামত, রুটিন মেইনটেন্যান্স, স্লীপ ও উপকরণ ক্রয় প্রসঙ্গে;
বিজ্ঞপ্তিতে সকল জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়,
প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামত, রুটিন মেইনটেন্যান্স, স্লীপ, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণ ও উপকরণ ক্রয় বাবদ প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অর্থ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
বিগত বৎসরগুলােতে দেখা গেছে যে, উল্লিখিত বরাদ্ধগুলোর কোন কোন ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে অনৈতিকভাবে ভাউচার তৈরী করে অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি দৃষ্টি গোচর হয়।
তাছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করা হয়। এ ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হয় দায়িত্ত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ যথাযথভাবে এ বিষয়গুলাে মনিটরিং করেন না। যা মােটেই কাম্য নয়।
এমতাবস্থায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত, রুটিন মেইনটেন্যান্স, স্লীপ, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণ ও উপকরণ ক্রয় বাবদ অর্থ বরাদ্দ সরকারি নীতিমালা যথাযথ অনুসরণ, বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ-কে অর্থ ব্যয় নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলাে।