প্রকাশিত,০৪, ফেব্রুয়ারি,২০২২
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা ১৮৮নং মেদনার টেক ইউসুফ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফেরদৌস আরা বেগমের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্রয়ের নামে ভুয়া বিল ভাউচারে ওই প্রধান শিক্ষিকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা।
২০২০-১০-০৬ অর্থবছরে ও ওই প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে। ক্ষুদ্র মেরামতের ২ লক্ষ টাকা থেকে সরকারি ভ্যাট দেয়া হয় ৬০ হাজার টাকা বলে জানান প্রধান শিক্ষিকা। অবশিষ্ট ১লক্ষ ৪০ হাজার টাকা থেকে বিদ্যালয় মেরামতের কোন খরচ না করে অথচ ২ লক্ষ টাকার ভুয়া ভাউচার তৈরি করে হাতিয়ে নিলেন ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।
তার এমন দুর্নীতি নিয়ে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকরা জানান, এ স্কুলে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। শুধু তাই নয় শিক্ষার্থী ও অবিভাবকরা তার অসৎ আচরণের কথাও তুলে ধরেন।
গফরগাঁও উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাযায়, স্কুল মাঠে মাটি ভরাট বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার টাকার ভাউচার অনুযায়ী মাঠে কোনো কাজ হয়নি, স্কুলে রং করা বরাদ্দকৃত ৮০ হাজার টাকার ভাউচার অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানে কোন রং করা হয়নি, ফ্লোর মেরামত ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দকৃত ভাউচার অনুযায়ী কোন কাজ হয়নি ও চেয়ার ৪টি ক্রয় বাবদ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দকৃত ভাউচার অনুযায়ী কোন চেয়ার ক্রয় করা হয়নি। দুই লক্ষ টাকা ব্যয়ের ভুয়া ভাউচারের পুরো টাকাই আত্মসাৎ করেন ওই শিক্ষিকা।’ সরে জমিনে তার কিছুই চোখে পরেনি।
বিপরীতে ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দকৃত ২ লক্ষ টাকার ভুয়া ভাউচার করে আত্মসাৎ করেন। ওই প্রধান শিক্ষিকা ম্যানেজিং কমিটিকে এড়িয়ে সার্বিক কার্যক্রম নিজের মতো করেই পরিচালনা করেছেন বলে জানান ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।
প্রধান শিক্ষিকা ফেরদৌস আরা বেগমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তাকে ৩০% করে ভ্যাট দিয়ে স্কুলের ফ্লোর পাকা করেছি, ১টি আলমারি কিনেছি বাকি কাজগুলো করবে বলে ফোন রেখে দেন।
সাবেক প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক এস এম শামছুল হুদা মন্ডল বলেন, ওই শিক্ষিকা আমাদের সাথে কোন রকম পরামর্শ না করেই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম করে আত্মসাৎ করেছেন প্রায় দুই লক্ষ টাকা, চুরি ত নয় যেন পাহাড় চুরি। ২০২০-১০-০৬ অর্থবছরে ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দকৃত বিদ্যালয়ের ভাউচার অনুযায়ী তিনি কোথায় কোথায় কাজ করেছেন? এতোগুলো টাকা কি করেছেন? অনেক দিন ধরে তার কাছ হিসাব চাচ্ছি ওনি হিসাব দিচ্ছেন না।
ওই স্কুল শিক্ষিকার অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রসঙ্গে গফরগাঁও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে এ বিষয়ে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, অত্র স্কুলের কাজ ১০০% সম্পন্ন হয়েছে। আপনার বক্তব্য নেওয়ার প্রয়োজন হলে আমার অফিসে আসেন বলে ফোন রেখে দেন।