
প্রকাশিত,১৬, জানুয়ারি,২০২৩
বরিশাল প্রতিনিধি//
বরিশালের বানারীপাড়ায় পাকা ভরনের মালিকের ভিক্ষাবৃত্তিতে
ছোট ছেলে জাহিদের প্রতিবাদ ও ভিক্ষা
বৃত্তি বন্ধের জোড় প্রচেষ্ঠা থাকলে তার বাস্তবতায় রূপ দিতে পারছেন না বড় ছেলে জাকিরের কারনে। অসহায় ও কান্না জনিত জাহিদের কন্ঠে ভেসে উঠে বাবার ভিক্ষাবৃত্তির পিছনে বড় ভাই জাকিরের ইন্ধনেরর কথা।
বড় করুন ও সমাজ বিরোধী ঘৃনিত এই কাজটি করছেন উপজেলার পৌর শহরের ৯ নং ওয়ার্ডের ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন বাসিন্ধা আবদুল বারেক। ভিক্ষা একটি সামাজিক সমস্যা ও অপরাধ। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ভিক্ষা নিষিদ্ধ।ভিক্ষাবৃত্তি ইসলামে জায়েজ নেই। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালার কাছে হালাল কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বা রাগের উদ্রেক সৃষ্টিকারী কাজ হলো স্ত্রীকে তালাক দেয়া ও ভিক্ষা করা।
বর্তমানে ভিক্ষাবৃত্তি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হলেও অভাব অনটনের জন্য এই নিকৃষ্ট ভিক্ষাবৃত্তিকেই অনেকে বেচে থাকার মাধ্যম হিসেবে বেঁচে নিয়েছেন। কিন্তু সম্পূর্ন ব্যতিক্রম ঘটেছে উপজেলার পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন বাসিন্ধা আবদুল বারেক
সাহেবের বেলায়। অঢেল সহায় সম্পত্ত্বি, পাকা দালান, দুটি সক্ষম ছেলে থাকা স্বত্ত্বেও তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করে সমাজকে কলুসিত করছে। পাশাপাশি ঐ এলাকাকে একটি ভিক্ষুকের এলাকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার চেষ্টা করতেছে। বাস্তবিক অর্থে আবদুল বারেক সাহেবের বসত বাড়িটা ৯ কক্ষ বিশিষ্ট সেমি পাকা ভবন। বড় ছেলে জাকির ঢাকায় ব্যবসা করে। ছোট জাহিদুল ইসলাম সিলেটে কাচামালের ব্যবসা করেন। আর্থিক দিক থেকে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছেন আবদুল বারেক ও তার সন্তনরা। এর পর ও কেন প্রতিনিয়ত ভিক্ষা করতে বের হয় ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন সেমি পাকা ভবনের মালিক আবদুল বারেক।
এর তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদনে জানা যায় বিগত দিনে আবদুল বারেক'র ছোট ছেলে জাহিদ বাবার এই ঘৃনিত পেশা হতে বেরিয়ে আসার জন্য অনেক চেষ্টা করছেন। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের স্বরনাপন্ন হয়েছেন। ঐ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সহ অনেকের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু বাবার ভিক্ষাবৃত্তি ফিরাতে গিয়ে বাবা মা ভাই জাকিরের রোশানলে পড়ে মামলা ও হয়রানীর স্বিকার হয়েছেন। এমন কোন চেষ্টা নেই যা জাহিদ করে নাই এই নিষিদ্ধ কাজ হতে বাবাকে ফিরাতে। বরং জাহিদের বাবার এই ভিক্ষার পেশাকে সমর্থন দিচ্ছেন তার ভাই জাকির ও ভাইয়ের স্ত্রী। জাহিদ আক্ষেক করে বলেন আমরা সক্ষম, বাবাকে আমি আমার কাছে ও নিয়ে আসতে চেয়েছি। মাসে তার কত খরচ সব আমি দিব বলেছি তার পর বাবায় আমার এ পেশা থেকে ফিরে আসছে না। সমাজে এখন বাস করা দায় হয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায় জাহিদের বড় ভাই জাকির ঢাকায় ব্যবসায় পাশাপাশি বাবার অসুস্থতার অজুহাতে একই কাজ করছেন। আবদুল বারেকের নাতি নাতনী বেড়ে উঠতেছে ঐ বাড়িতেই। কিন্তু দাদার এমন কর্মকান্ডে সমাজে মুখ দেখাতে পারছে না তারা। আবদুল বারেকের কোন অভাব অনটন না থাকার পর ও তিনি কেন এই পেশাকে আকড়ে ধরে রেখেছেন, কেন এই নিষিদ্ধ কাজ হতে বের হচ্ছেন না তার জন্য তার নিকট আত্মীয়রা বানারীপাড়ার ইউ এন ও সহ এই দায়িত্বে নিয়োজিত সবার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে আবদুল বারেকের এই সামাজিক ব্যাধি ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করার ব্যবস্থা করে আত্মীয় স্বজন সবাইকে সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে বাস করার সুব্যবস্থা করার আর্জি জানিয়েছেন। এলাকাবাসী জানায় আবদুল বারেকের ছোট ছেলে জাহির তার বাবার এই ঘৃণীত পেশার ঘোর বিরোধী। বিগত দিনে অনেক চেষ্টা করেছেন ফিরাতে। ফিরাতে তো পারেন নি বরং অনেক সমস্যার সম্মূখীন হয়েছেন ভাই জাকিরসহ সকলের কাছ থেকে। জাহিদ চায় যেকোন তার বাবা এই নিষিদ্ধ পেশা হতে ফিরে আশুক। বাবার সকল দায়িত্ব জাহিদ নিতে ও রাজী। তারপর ও বড় ভাই জাকিরের প্ররোচনায় তা বাবা এই পাপ পথ হতে বেরিয়ে আসতে পারছে না। এদিকে
দেশে দারিদ্র্য নিরসনে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং ভিক্ষাবৃত্তির মত অমর্যাদাকর পেশা থেকে মানুষকে নিবৃত করার লক্ষ্যে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য সরকারের রাজস্ব খাতের অর্থায়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ‘‘ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান’’ শীর্ষক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আগস্ট/২০১০ খ্রিঃ হতে কর্মসূচি’র কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১০ সাল হতে ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমান জনবান্ধব সরকার ভিক্ষাবৃত্তির মত সামাজিক ব্যধিকে চিরতরে নির্মূলের বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। সেলক্ষে গত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ভিক্ষুক পুনর্বাসন খাতে ২৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন পাওয়া যায়। উক্ত অর্থ ০৯টি জেলায় ছাড় করা হয়েছে।২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫৮টি জেলায় ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও অন্যান্য ব্যয় খাতে অর্থ প্রেরণ করা হয়েছে। ৩৬টি জেলায় ৪-৫ লক্ষ টাকা হারে, ১৬টি জেলায় ৫-৬ লক্ষ টাকা হারে এবং ৬টি জেলায় ৭-১০ লক্ষ টাকা হারে অর্থ প্রেরণ করা হয়।২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৮টি জেলায় ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও অন্যান্য ব্যয় খাতে অর্থ প্রেরণ করা হয়েছে।২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪১টি জেলায় ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও অন্যান্য ব্যয় খাতে অর্থ প্রেরণ করা হয়েছে।২০২০-২১ অর্থবছরে বিভিন্ন জেলায় অর্থ প্রেরণ করা হয়েছে।২০২১-২২ অর্থবছরে ৬৩টি জেলায় অর্থ প্রেরণ এবং ১৬টি সেমিপাকা আবাসিক ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় মালামাল ও প্রশিক্ষণ সরঞ্জামাদির জন্য ব্যয় নির্বাহ করা হয়েছে।২০২২-২৩ অর্থবছরের অর্থ ছাড়করণ প্রক্রিয়াধীন আছে।
যেখানে সরকার এই ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেড়িয়ে আসতে সর্বদা সচেষ্ঠ সেখানে আবদুল বারেকের মত একজন সচ্ছল ব্যক্তি কিভাবে এই ঘৃনিত পথে আটকে রয়েছে? যাদের ইন্ধনে নিষিদ্ধ পেশায় থেকে সবাইকে ছোট করছে তাদের ও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত শাস্তি দিলে সমাজ থেকে এই ধরনের নষ্ট মগজের মানুষগুলো কিছুটা হলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে। এ বিষয়ে আবদুল বারেকের ছোট ছেলে জাহিদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হলেও বড় ছেলে জাকিরকে মোবাইলে পাওনা না যাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র এমাম হোসেন বলেন