
অনলাইন ডেস্ক,
বাংলাদেশের সঙ্গে কানেকটিভিটি উত্তর-পূর্ব ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগের সম্ভাবনা খুলে দিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা গতকাল গৌহাটিতে উত্তর-পূর্ব উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যকার ভার্চুয়াল শীর্ষ বৈঠকের পর শ্রিংলা এই প্রথম মন্তব্য করছিলেন। তিনি এখানে নতুন প্রস্তাব যেমন বলেছেন, তেমনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে রেল-সড়ক যোগাযোগের ফলে ভারত ও বাংলাদেশ উপকৃত হয়েছে।
তিনি বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রী শেষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময় চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেল যোগাযোগ উদ্বোধন করেন।
এর ফলে অদূর ভবিষ্যতে কলকাতা থেকে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে শিলিগুড়ি পর্যন্ত ট্রেন চলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যেমনটি ১৯৬৫ সালের আগে চলত। তিনি জানান, এ রকম আরও দুটি রেল যোগাযোগের কাজ চলছে। একটি হলো কুলাউড়া-শাহবাজপুর। এটি চালু হলে বাংলাদেশের সিলেটের সঙ্গে আসামের করিমগঞ্জের রেলসংযোগ পুনরায় চালু হবে। অন্যটি হলো আখাউড়া-আগরতলা।
এটি ২০২২ সালে চালু হবে। তখন ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্ণ হবে। শ্রিংলা বলেন, অভিন্ন নদ-নদীর মধ্যে আন্তর্জলপথ পরিবহনমাধ্যম ব্যবহার করে পণ্য রপ্তানি ও আমদানি সহজ হয়েছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র ও বরাক-সুরমা নদীর ব্যবহার। এ নদী প্রটোকল ব্যবহার করেই সম্প্রতি ভুটান থেকে বাংলাদেশ পণ্য আমদানি করতে পেরেছে। তিনি এও জানান, কভিড-পরবর্তী সময়ে গৌহাটি-ব্যাংকক ও গৌহাটি-ঢাকা বিমান পরিষেবা চালু হয়ে যাবে।
তিনি আরও জানান, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পুবের রাজ্যগুলোর জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সরবরাহ করার প্রস্তাব রয়েছে। ভবিষ্যতে সড়ক যোগাযোগ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। বাংলাদেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করে শ্রিংলা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের আয় বেড়েছে। ফলে বাজার তৈরি হয়েছে।
এর সদ্ব্যবহার করতে পারে উত্তর-পুবের রাজ্যগুলো। একই সঙ্গে বাংলাদেশও সুযোগ নিতে পারে। প্রধানমন্ত্রী মোদির দর্শন অনুসারে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও বিমসটেকের সঙ্গে আশিয়ান দেশগুলোকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।