
প্রকাশিত,১৩, জানুয়ারি,২০২২
||মেহেদী ইমাম, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি||
পার্বত্য জেলা রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা সদরে চেঙ্গি নদীর ওপর দিয়ে নির্মিত বহুল প্রত্যাশিত নানিয়ারচর সেতু উদ্বোধন করলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে বৃহৎ ৪টি প্রকল্পের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেঙ্গি নদীর ওপর ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং পার্বত্যাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এই সেতু উদ্ধোধন করেন।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ দুই দশক ধরে অশান্ত পরিবেশ বিরাজ করছিল। তিনি ক্ষমতায় গিয়ে পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পাদন করায় বর্তমানে পার্বত্য এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে। এই সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে আমরা আরো একধাপ এগিয়ে গেলাম।
চেঙ্গি নদীর ওপর দিয়ে নির্মিত ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্য নানিয়ারচর সেতুর গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই সেতু নির্মাণের ফলে পার্বত্য এলাকার সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। উন্মোচিত হয়েছে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত। সেতুটি নির্মিত হওয়ায় সড়ক পথে রাঙামাটি জেলা সদর হতে নানিয়ারচর ও লংগদু উপজেলা হয়ে সরাসরি বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারবে এলাকার মানুষ। যাতায়াতের পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যাপক সুবিধা গড়ে উঠবে। ফলে স্থানীয় লোকজনের আর্থ-সামাজিক ও জীবনমান উন্নয়নসহ পার্বত্য এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র দ্রুত পাল্টে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী এসময় ঢাকা-এয়ারপোর্ট মহাসড়কে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজ সংলগ্ন পথচারী আন্ডারপাস, সিলেট শহর বাইপাস-গ্যারিসন লিংক টু শাহ পরাণ সেতু ঘাট সড়ক ৪লেন মহাসড়কে উন্নয়ন, বালুখালী (কক্সবাজার) হতে ঘুনধুম (বান্দরবান) সীমান্ত সংযোগ সড়ক প্রকল্পেরও শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
শহিদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল সংলগ্ন আন্ডারপাস প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, গত ১৯সালে একটি সড়ক দূর্ঘটনায় স্কুল ছাত্র নিহতের ঘটনায় এই আন্ডারপাসটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসময় তিনি বলেন, পথচারীদের সব সময় সতর্কতায় চলাফেরা করতে হবে। দূর্ঘটনা ঘটলে আইন হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। চালকদের আরো সতর্ক হতে হবে।
চ্যালেঞ্জিং এসব কঠিন প্রকল্পগুলো যোগ্যতার সঙ্গে সফল বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটির এমপি দীপংকর তালুকদার, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, অতিরিক্ত মহা-পরিচালক সদর দপ্তর ৩৪ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেড কর্ণেল মুহম্মদ সাইফুর রহমান, ২৪পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোঃ সাইফুল আবেদীন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাছ্ছের হোসনে, নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি রহমান তিন্নিসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামরিক বেসামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহে আরেফিন জানান, নানিয়ারচর উপজেলা সদরে চেঙ্গি নদীর ওপর দিয়ে আধা কিলোমিটার (৫০০ মিটার) দৈর্ঘ্যের এই সেতুটির নির্মাণ কাজ ২০১৬ সালের নভেম্বরে শুরু হয়ে তা শেষ হয় ২০২১ সালের ৩০ জুন। জমি অধিগ্রহণসহ নির্মাণ কাজে মোট ব্যয় হয়েছে ২২৫ কোটি টাকা প্রায়। এটির নির্মাণকাজ করেছে সেনাবাহিনীর ২০ ও ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন। সেতুটি নির্মাণে রাঙামাটি জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগে নানিয়ারচর, লংগদু, বাঘাইছড়ি এবং খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা সংযুক্ত করবে। বর্তমানে নানিয়ারচর উপজেলা সদর হতে লংগদু উপজেলা সদর পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে। নির্মাণ কাজে আরও ১৬ কিলোমিটার সড়ক অবশিষ্ট রয়েছে। লংগদু পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ শেষ হলে রাঙামাটি সদর হতে নানিয়ারচর, লংগদু ও দীঘিনালা হয়ে সরাসরি সাজেক ও বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা পর্যন্ত সড়ক পথে যানবাহন চলাচল করবে।