
প্রকাশিত,৬ এপ্রিল, ২০২১
মো জহুরুল ইসলাম।
ডিমলা নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
পর্দা! এটি কি শুধু নারী শাসিত শব্দ?
নাকি পুরুষ শাসিতও বটে। যদি পুরুষ শাসিত হয় তাহলে প্রিয় পুরুষ বন্ধুটি আমার, আপনি এরকম উলঙ্গ কেন? আপনি কি জানেন!
পর্দা আগে কার উপর ফরজ হয়েছে। পুরুষ! হ্যাঁ, পুরুষদের উপর আগে ফরজ হয়েছে। তারপর নারীদের উপর।
আপনি নিজে উলঙ্গ হয়ে চলবেন আর আপনার নেতৃত্বাধিন নারীকে পর্দা করতে বলবেন এমন বোকামি বিধান আল্লাহ তা'লা দেননি।
আল্লাহ আকবার।
আল্লাহ আপনি কত মহান। হাদিসে এসেছে: “নারীদের তত্বাবধায়ক হলেন পুরুষরা” আবার পবীত্র কুরআনে এসেছে: “তোমরা নিজে যেটা করো না সেটা অপরকে বলো না”। আলোচ্য আয়াত ও হাদিস বিশ্লেষণ করলে বুঝবেন,
আপনি পুরুষ; ঘুরেফিরে পর্দার বিধানটি আপনার উপরই বর্তাচ্ছে বারবার। এখন নিশ্চয় জানতে চাইবেন, পুরুষের পর্দা আবার কেমন? হ্যাঁ, আমি বিস্মিত নই। এটাই স্বাভাবিক।
একজন নারীর পর্দা বলতে তো কিছু একটা আছে। কিন্তু পুরুষের পর্দা এটা কেমন কথা।
এই মুহুর্তে তৃতীয় কিংবা চতুর্থ শ্রেনীর একজন ছাত্রতে যদি বলেন পুরুষের পর্দা কতটুকু। আমার আত্মবিশ্বাস, সে পারবে না।
কেননা আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা তেমন নয়। যদিও নামে একটা বই আছে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা কিন্তু তাতে পর্যাপ্ত পরিমান অনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিদ্যমান। কাবার সাথে মন্দিরের ফটো কম্পেয়ার করে যে জাতি নৈতিক শিক্ষা দিতে চায় সে জাতির সামনে অন্ধকার আর জাহেলিয়াত অপেক্ষমান। যাক! ওসব কথা বাদ।
পর্দা! একজন পুরুষের পর্দা সাধারণত নাভি থেকে নিয়ে হাটুর নিচ পর্যন্ত।
কিন্তু এতটুকুই সীমাবদ্ধ নয়। একজন পুরুষের পর্দা নিয়ে যদি গবেষণা করি তাহলে অনেক কিছুই বলার থাকে। একজন পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে, সামাজিক আচরণে, ভার্চ্যুয়াল জগতে, শ্রবণশক্তিতে অর্থাৎ প্রত্যেকটি ধাপে পর্দার হুকুম আছে। কিন্তু আমি আপনি ভাবি না তাই মনে করি এতকিছু নাই। হাদিসে এসেছে: “তোমরা এক পুরুষ অন্য পুরুষের উড়ুতে তাকিও না।” কিন্তু আমরা পুরুষরা কতটা উদাসীন। একসাথে হলেই অশ্লিল কায়দায় জড়াজড়ি, কথার ফুলঝুরি আমাদের নিত্য বৈশিষ্ট্যের অংশ। এটা কি পর্দার বরখেলাপ নয়? পর্দার নিয়ম বর্ননা করতে গিয়ে রাসুল সাঃ বলেছেন: তোমরা দুইজন পুরুষ একসাথে ঘুমালে মাঝখানে একটি পাটিশন দিয়ে ঘুমাবা”। কি অসাধারণ কথামালা। কিন্তু আমরা পুরুষরা কতটা জঘন্য তা বলার প্রশ্ন রাখে না।
এটা কি পর্দার বরখেলাপ নয়? আমাদের কথা বার্তার মাঝেও পর্দার হুকুম বিদ্যমান।
আল্লাহ তায়া’লা বলেছেন: “মুমিন পরুষরা খুব সতর্কতার সাথে কথা বলে”। কিন্তু আমরা পুরুষরা যারা অনলাইনে জড়িত তাদের ক্ষেত্রে দেখি কথা বার্তার ক্ষেত্রে কতটা সতর্ক? আফসোস হয়! আমরা পুরুষরা মেয়েদের ফ্রেন্ডলিস্ট চেক করি, মেয়েদের আইডি চেক করি, মেসেঞ্জারে নক দেই।
যা সম্পুর্ণ পর্দার বিধান লঙ্ঘিত করে। এর জন্য অবশ্যই আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে আমাদের।
একজন পুরুষ কেন এতিমের মতো একজন নারীর পিছনে পিছনে ঘুরবে আমার বোধগম্য নয়। আর এভাবে ঘোরাঘুরির একটাই কারণ সেটা হলো পুরুষ শাসিত পর্দার বিধান উপলব্ধি না করা।
এমনি ভাবে হাজত, খাওয়া-দাওয়া, পারস্পরিক মোয়ামেলাত, কারোর বাড়ি বা ঘরে প্রবেশ সবটা জায়গায় পর্দার বিধান প্রযোজ্য। পুরুষ হিসেবে যখন দায়িত্বের জায়গাটা এমনি তখন অবশ্যই একজন পুরুষের উচিত যথাযথ ভাবে পর্দার বিধানগুলো মেনে চলা।
এতে গড়ে উঠবে একটি সুন্দর স্বাচ্ছন্দময় আত্মা অতঃপর ব্যক্তিত্ব অতঃপর পরিবার অতঃপর সমাজ অতঃপর একটি সোনালি রাষ্ট্র। এসবের মূলে আমি যেটা লক্ষ্য করছি সেটা হলো পর্দা, পর্দা এবং পর্দা।
আর হ্যা পুরুষের পর্দা।