
প্রকাশিত,১৬, সেপ্টেম্বর,২০২২
হৃদয় হোসাইন -বেড়া পাবনাঃ
গাঁও-গ্রামে খুব সুন্দর বাসা বোনে বলে এরা তাঁতি পাখি, বাবুই,বাউই নামেও পরিচিত।বেড়া পৌরসভাধীন ৭নং ওয়ার্ড বড়শিলা মহল্লায় বসতবাড়ির তাল,নারিকেল,খেজুর গাছে এদের বিচরণ ক্ষেত্র।
এ মহল্লায় যে দিকে চোখ যায় প্রায় উচু গাছে দেখা মিলবে বাবুই পাখির বাসা।তবে গ্রাম-বাংলায় দৃষ্টিনন্দন এ পাখির বেশি দেখা মিলতো এখন আর আগের মতো দেখা যায় না।এদের বাসার গঠন বেশ জটিল আর আকৃতি খুব সুন্দর।কয়েক প্রজাতির বাবুই একাধিক কক্ষবিশিষ্ট বাসা তৈরি করতে পারে।
বাবুই পাখিকে শৈল্পিক ইঞ্জিনিয়ার বলা চলে।নিজের ঘর সাজাতে তাদের কোনো জুড়ি নেই।এরা বেশ দলবদ্ধ প্রাণী আর কলোনি করে জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত।বেশিরভাগ বাবুই প্রজাতির পুরুষ সদস্য বেশ উজ্জ্বল রঙের হয়।কিছু প্রজাতি তাদের প্রজনন মৌসুমে বর্ণের ভিন্নতা প্রদর্শন করে।এক সময় গাঁও-গ্রামে বুননশিল্পী পাখি ও বাসার সন্ধানে পাখিপ্রেমীরা ছবি তুলতে,কিচির-মিচির শব্দ শোনার জন্য আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়াতেন।
এখন আর তেমন একটা বাবুই পাখি চোখে পড়ে না। পড়ে না নয়নাভিরাম বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা। গাঁও-গ্রামের আকাঁবাঁকা মেঠোপথে, পতিত উঁচু ভিটেমাটিতে, কখনও কখনও বাড়ির সীমানায় শোভাবর্ধন তাল গাছে বাবুই পাখির বাসা শোভা পেত।তা দেখে মানুষ মুগ্ধ হতো।এখন সেই তালগাছও প্রায় বিপন্ন হতে চলছে।বাংলাদেশে তিন ধরনের বাবুই দেখা যায়।
দেশি বাবুই, দাগি বাবুই ও বাংলা বাবুই।বাবুই পাখির বাসা উল্টানো কলসির মতো দেখতে।বাসা বানানোর জন্য বাবুই খুব পরিশ্রম করে। ঠোঁট দিয়া ঘাসের আস্তরণ ছাড়ায়।যত্ন করে পেট দিয়ে ঘষে গোল অবয়ব মসৃণ করে।শুরুতে দুটি নিম্নমুখী গর্ত থাকে।
পরে একদিক বন্ধ করে ডিম রাখার জায়গাও তৈরি করা হয়।অন্য দিকটি লম্বা করে প্রবেশ ও প্রস্থান পথ থাকে।কথিত আছে- বাবুই পাখি চালাকও কম নয়।রাতে বাসায় আলো জ্বালাতে জোনাকি পোকা ধরে এনে বাসায় গুঁজে রাখে।বাবুই পাখি যত্ন করে তালপাতা,কাশবনের পাতা,খড়কুটো দিয়েই উঁচু তালগাছে,নারিকেল, কড়ই,খেজুর গাছে বাসা বাঁধে।বাসা যখন উঁচু তাল গাছে দোল খায়, তখন দারুণ লাগে।তাদের শৈল্পিক চিন্তা এতই প্রবল ঝড় কিংবা তুফানেও কোনো ক্ষতি সাধন করতে পারে না।এরা সাধারণত খুঁটে খুঁটে বিভিন্ন ধরনের বীজ, ধান, ভাত, পোকা, ঘাস, ছোট উদ্ভিদের পাতা, ফুলের মধু-রেণু ইত্যাদি খেয়ে জীবন ধারণ করে।গ্রীষ্মকাল এদের প্রজনন মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস।প্রজনন মৌসুমে পুরুষের দেহে রঙের যথেষ্ট পরিবর্তন হয়।
পুরুষের মাথার চাঁদি সোনালি-হলুদ হয়ে যায়। কান-ঢাকনি ও গাল হালকা বাদামি থেকে সাদা। ঘাড় ধূসর-কালো ও গলা সাদা। বুকে চওড়া কালো ফিতা। পেট ফিকে সাদা, যাতে হালকা বাদামি বা হলদের ছোঁয়া। পিঠে কালচে লম্বালম্বি দাগ। প্রজননকালের স্ত্রী অন্য সময়ে চেয়ে কিছুটা উজ্জ্বল,অনেকটা শীতের পুরুষের মতো।বাবুই পাখি বিরল প্রকৃতির।গাঁও-গ্রামে তাল গাছ, নারিকেল গাছ, খেজুর গাছ ও কড়ই গাছে তারা দল বেঁধে বাসা বাঁধে।এই বাবুই পাখি পরিবেশ বিপর্যয় ও বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা দায়িত্ব সবার।
হৃদয় হোসাইন
বেড়া,পাবনা