পাথরে চাঁদাবাজি কান্ডে অডিও ভাইরাল,সচেতন নাগরিকদের বিক্ষোভ।


দেশ সময় প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৩-০৪, ১০:৫৪ অপরাহ্ন /
পাথরে চাঁদাবাজি কান্ডে অডিও ভাইরাল,সচেতন নাগরিকদের বিক্ষোভ।
print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি:

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধে উপজেলার সচেতন নাগরিকদের আয়োজনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার বিকেল ৪টায় উপজেলার টুকের বাজার পয়েন্টে এ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের সাথে আব্দুল জলিল নামের এক সাংবাদিকের অনৈতিক লেনদেন সংক্রান্ত অডিও ভাইরালের পর নড়চড়ে বসেছে সচেতন নাগরিকবৃন্দ।

প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মইন উদ্দিন মিলন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এমরান আলী, উপজেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ের সভাপতি কবির আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ মিয়া, যুবদল নেতা আনসার উদ্দিন জিলানী।

এ সময় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা জতির দর্পণ। সাংবাদিকের কলম অন্যায়ের বিরুদ্ধে চলবে। সেই সাংবাদিক যদি অন্যায় প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়। দূর্ণীতিকে লালন করেন। চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পরেন তবে জাতির বিবেকে পচন ধরবে।

উল্লেখ্য, কোম্পানীগঞ্জে আব্দুল জলিল নামে এক সংবাদকর্মী পুলিশের এক কর্মকর্তার সাথে পাথরবাহী ট্রাক্টর থেকে চাঁদা আদায় ও মামলা বানিজ্য সংক্রান্ত একাধিক অডিও ভাইরাল হয়। যা নেটিজেনদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

স্থানীয়দের মাঝে ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠা সংবাদকর্মী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নারাইনপুর গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে।

জানা গেছে, সম্প্রতি শাহ্ আরফিন টিলা থেকে লুট হওয়া পাথরের গাড়ি থেকে পুলিশকে রাতের বেলায় চাঁদার টাকা তুলার পরামর্শ দেন স্থানীয় আব্দুল জলিল- এমন একাধিক অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথোপকথনের অডিও ক্লিপটি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তাদের কথোপকথন পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

একটি অডিও ক্লিপে শোনা যায়, আব্দুল জলিল পুলিশের এসআই কামরুল আলমকে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় পরামর্শ দেন, ‘আফনে এক খাম (কাজ) খরুইন (করেন), ওউ রাত্রে হেরা (তারা) যিখানো (যেখানে) তুলের (টাকা) অখানের (সেখানে) মাঝে টেখা (টাকা) তুলইন (তুলেন)। হেরা টেখা তুলিয়া আফনারে দেউক।’

আব্দুল জলিলের জবাবে এসআই কামরুল আলম বলেন, ‘আমি যদি আলুঘাট দিয়া যেসময় আফনারা আমারে কইছিলেন যে আলুঘাটা দিয়া রাস্তা দিলাইন রাত্রে তিনটা থেকে চারটা পাঁচটা ছয়টা তিন ঘন্টা বা দুই ঘন্টা, আমি যদি ঐ সময় লাইন দিতাম তাইলে আমিও আজকে পঞ্চাশ লাখ টেখার মালিক অইতাম, আপনারাও মোটামুটি সবাই শান্তিতে থাকতেন।’

আরেকটি অডিও ক্লিপে বলতে শোনা যায়, আব্দুল জলিল ইনচার্জ কামরুল আলমকে বলেন, তারা আইছে তারারে…

এসময় এসআই কামরুল আলম বলেন, তারারে সম্মানি ইয়…ত, শান্তনা দিলাম, শান্তনা দিলাম তো।
জবাবে আব্দুল জলিল বলেন, কোয়াই টেখা কোয়াই।
এরপর কামরুল আলম বলেন, নাই নাই নাই। সত্যি নাই।
পালটা জবাবে জলিল বলেন, কোন সময় দিবা? কালকে অও বেটারে আর লগে আমারেও রাখবা।