
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোনতাজ ইউনিয়নের চর আন্ডা ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভূমিদস্যুতার প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের হামলা ও দেশীয় অস্ত্রের কোপে প্রতিপক্ষের অন্তত ৬ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্তরা জানায়, চরমোনতাজ ইউনিয়নের চর আন্ডা ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস খান এবং সাধারণ সম্পাদক মিজান খানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অপকর্ম এবং স্থানীয়দের জমি দখলের (ভূমিদস্যুতা) অভিযোগ উঠছিল। তাদের এসব কর্মকাণ্ডে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে জানিয়ে স্থানীয় বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকরা সম্প্রতি তাদের ডেকে এসব অপকর্ম বন্ধ করার অনুরোধ জানান, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন ইদ্রিস খান ও মিজান খানের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক প্রতিবাদকারী নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা রামদা, দা, ও লাঠি নিয়ে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি কোপাতে ও পেটাতে শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন রক্তাত ও গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে স্থানীয় ও স্বজনরা তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহতরা হলেন:
খলিল সিকদার (৩৫), নজরুল মাঝি (৩৫), মনির মাঝি (৪৮), সবুজ মাঝি (৩০), শাহিন সিকদার (৩২) এবং কালু মল্লিক (৩৫)। অভিযোগের তির যাদের দিকে: আহত ও ব্যক্তিদের অনুযায়ী, উক্ত নৃশংস হামলায় সরাসরি অংশ নেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস খান ও সাধারণ সম্পাদক মিজান খান। এছাড়া তাদের সঙ্গে হামলায় জড়িত ছিলেন—আলমাস খান, হাসান খান, হোসেন খান, হিরোন খান, মোহাম্মদ খান, আবু কালাম খান, জাহির খান, মুখছু খান, কাওছার খান, মামুন খান, জুলহাস খান, সবুজ খান, শফিক খান, অলিল খান, খলিল খান, মনির শিউলি, নজরুল শিউলি, বেল্লাল তালুকদার, আইয়োব খান, ফিরোজ সিকদার, রাকিবুল খান, সহিদান খান এবং হানজেলাসহ আরও অনেকে। ঘটনাটি ঘিরে চরমোনতাজ ইউনিয়নে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও তৃণমূলের সাধারণ নেতাকর্মীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের দ্রুত আইন ও দলীয় শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।