
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও সাজানো ঘটনা প্রচার করে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগ এনে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন সাংবাদিক রুনু হাওলাদার।
তিনি জানান, গত ২৯ জুন কথিত গণমাধ্যমকর্মী গোপাল হাওলাদারের সঙ্গে তার কিছু কথোপকথন পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারণ করে বিভিন্ন ফেসবুক আইডির মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, পুরো ঘটনাটি ছিল একটি সাজানো নাটক, যার উদ্দেশ্য ছিল তাকে সামাজিকভাবে অপমানিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করা।
রুনা হাওলাদারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৬ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি জানতে পারেন, গভীর রাতে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমার থেকে আসা বিপুল পরিমাণ
সুপারি ও
সামুদ্রিক মাছ প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। জনস্বার্থে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কোস্ট গার্ড কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।
পরবর্তীতে অভিযান পরিচালিত হলে তার পরিচয় তথ্যদাতা হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে এবং এরপর থেকেই তিনি বিভিন্ন মহলের হুমকি-ধমকির শিকার হতে থাকেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার দিন পটুয়াখালীর চৌরাস্তা এলাকায় সাংবাদিকতা বিষয়ক আলোচনা চলাকালে কথিত সাংবাদিক গোপাল হাওলাদার পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হঠাৎ তার সামনে এসে একের পর এক অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে থাকেন এবং বারবার মাইক্রোফোন সামনে ধরে তাকে বিব্রত করার চেষ্টা করেন। তার অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করে।
এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, তার অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য ভাইকে টাকা দেওয়ার সময় গোপনে ভিডিও ধারণ করে সেটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এতে তিনি ও তার পরিবার সামাজিকভাবে চরম হেনস্তা ও মানসিক কষ্টের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
রুনা হাওলাদার বলেন, আমি দীর্ঘদিন নীরব থেকেছি।
কিন্তু পরিকল্পিত অপপ্রচার, মানহানি এবং পরিবারকে জড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আজ আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যারা সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে অসাধু চক্রের স্বার্থ রক্ষা করছে এবং অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের
দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, “আমার এই বক্তব্য কেউ ইতিবাচকভাবে দেখবেন, আবার কেউ নেতিবাচকভাবে দেখবেন।
তবে আমি বিশ্বাস করি, সত্য একদিন প্রতিষ্ঠিত হবেই এবং সমাজের বিবেকবান মানুষ প্রকৃত ঘটনা বিবেচনায় নেবেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।