
প্রকাশিত, ১৬ প্রকাশিত, ২০২১
…………………….……..
পটিয়া (চট্টগ্রাম)প্রতিনিধিঃ-
চট্টগ্রামের পটিয়ায় বন উজাড়ের মহোৎসব চলছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পটিয়া রেঞ্জের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রকাশ্যে বন থেকে কোটি কোটি টাকার নানা প্রজাতির গাছ কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাবাসীর অভিযোগ ।আর এসব গাছ কেটে পাচার করার পেছনে সিন্ডিকেট প্রধান কচুয়াই ইউনিয়নের উওর শ্রীমাই রমিজ। সে দীর্ঘদিন যাবত গাছ পাচার করলেও ধরা চোয়ার বাইরে রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে সে পটিয়া রেঞ্জ অফিসের কর্মকর্তা কে টাকা নিয়ে মাইনেজ করে বীরদর্পে সামাজিক বনায়ন কেটে ব্যাবসা জমজমাট করছে। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
সামাজিক বনায়নে গাছ কাটতে গেলে জোত পারমিট দরকার হয়।বনবিভাগের অনুমতির প্রয়োজন এসব সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ না করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে গত ৩০ বছর গাছের ব্যাবসা করছে রমিজ সহ একটি বিশাল সিন্ডিকেট। এছাড়াও সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার নীতিমালা অনুসরণ না করে উপজেলার কেলিশহর, হাইদগাঁও, কচুয়াই, শ্রীমাই, ভান্ডালজুড়ি,খরনা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বোয়ালখালী ও চন্দনাইশ এলাকায় সেগুন বাগানসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটা হচ্ছে। এতে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হলেও পকেটভারি হচ্ছে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। তারা প্রতি মাসে গাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে থাকেন বলেন এলাকার লোকজনের অভিযোগ । যার কারণে দক্ষিণ বন বিভাগের এরিয়ায় গাছ কাটার মহোৎসব চলছে।এসব গাছের ডালপালাগুলো প্রতিদিন ইটভাঁটিতে জ্বালানি কাঠ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু একশ্রেণীর মানুষ বন বিভাগের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রতিদিন গাছ কেটে পরিবেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে সামাজিক বনায়নের নামে সেগুন, গর্জন, চাপালিশ, মেহগনি সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাহাড়ী ছোট বড় গাছ কেটে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। বৈধ জোত পারমিটে অবৈধ গাছ পাচার হচ্ছে বলে পাহাডি অঞ্চলবসবারতরা জানান। বর্তমানে পটিয়া উপজেলা পৌরসভা এলাকায় শতাধিক করাতকলের পাহাড়ি গাছের সয়লাব। বনবিভাগের কর্মকর্তারা জানান পটিয়া পুর্ব অঞল পাহাড় সরকারি গাছের রিজার্ভ বাগান নেই। তাহলে পাহাড়ে আছে কি জনগণের নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সুএে জানাযায়,পটিয়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী পাহাড়ী এলাকায় প্রায় ২৭ হাজার একর সরকারী বনায়ন রয়েছে। এসব বনায়নেও এখন গাছখেকোদের নজর পড়েছে। বেসরকারীভাবে ৮০ হাজার একর পাহাড় ও সামাজিক বনায়ন রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, পটিয়া রেঞ্জ কতিপয় কর্মকর্তা মাসোহারা দিয়ে গাছ ব্যবসায়ীরা একের পর এক সেগুন বাগানসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রতি শুষ্ক মৌসুমে দক্ষিণ বন বিভাগের অধীনে যেসব সরকারী-বেসরকারী বাগান রয়েছে তা প্রকাশ্যে কাটা চলছে। সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার নীতিমালা অনুসরণ না করে গাছ ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো গাছ কাটছে। উপজেলার কেলিশহর মৌলভীহাটের পূর্বে, হাইদগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়, খরনা, কচুয়াই, শ্রীমাই, চন্দনাইশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ও বোয়ালখালী উপজেলার মেধসমুনি আশ্রম এলাকায় কোটি কোটি টাকার গাছ কাটা হচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার নিয়মনীতি রয়েছে। কিন্তু পটিয়া বনবিভাগের কথিপয় কর্মকর্তা মাসোহারা দিয়ে কোন ধরনের নিয়মনীতি ছাড়াই গাছ ব্যবসায়ীদের গাছ কাটার জন্য সুযোগ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ এলাকার লোকজনের ।
তাছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান মহাসড়কে পটিয়া এলাকায় বন বিভাগের কোন চেক পোস্ট না থাকলেও প্রতি রাতে বৈধ ও অবৈধ গাড়ি থেকে গণহারে টাকা আদায় করা হচ্ছে। পটিয়া, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা-কর্ণফুলী এলাকায় প্রায় দেড়শ করাতকল (স’মিল) রয়েছে। এসব করাতকলের বেশিরভাগ অবৈধ। শুধু রেঞ্জ কর্মকর্তাকে মাসোহারা দিয়ে চলছে। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, বান্দরবান, লামা আলীকদম, থানচি,লোহাগাড়া,সাতকানিয়া,বাঁশখালী,চন্দনাইশের ধোপাচডি,পদুয়া,চুনতি, নাইক্ষ্যংচডি,কক্সবাজার উত্তর দক্ষিণ বনবিভাগ এবং উখিয়া চকরিয়াসসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে যেসব গাড়ি মহাসড়ক হয়ে যাতায়াত করে প্রতিটি গাড়ি থেকে বন বিভাগ বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আদায় করে থাকে। বন উজাড় করে জ্বালানি কাঠ আশপাশের ইটভাঁটিতে পোড়ানোর সুযোগও করে দেয়া হয়েছে।বিষয়টি বনবিভাগ চট্টগ্রাম কর্মকর্তা ও বন্ধ ও পরিবেশ মন্রীর সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল।
সেলিম চৌধুরী
পটিয়া চট্টগ্রাম ।