

প্রকাশিত
শাহাদাত হোসেন রাসেল
নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটি বাতিল করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নতুন কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।
তাদের অভিযোগ, ঘোষিত কমিটিতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। একই সঙ্গে সিনিয়র-জুনিয়র বিবেচনায়ও নানা অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।
২৪ই আগস্ট (সোমবার) এক বিবৃতিতে বসুরহাট পৌরসভা ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৭ আগস্ট বসুরহাট পৌরসভা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও দলীয় শৃঙ্খলা ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে তারা ধৈর্য ধারণ করে আসছেন। তবে এসব অসংগতি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ঘোষিত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দেলোয়ার হোসেন সাইফুলকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি নিজেই এ পদে আগ্রহী ছিলেন না বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন। এছাড়া তিনি এ পদের জন্য সিভিও জমা দেননি বলেও দাবি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রদল নেতা মেরাজকে কমিটিতে সদস্য পদ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মামলা-হামলা ও কারাবরণের বিষয় বিবেচনায় তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের। একই সঙ্গে তার সঙ্গে মাঠে সক্রিয় থাকা কয়েকজনকে যুগ্ম আহ্বায়কসহ বিভিন্ন পদ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এছাড়া কমিটিতে এমন কয়েকজনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে, যারা এখনও শিক্ষাজীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছেন এবং কয়েকজন ৫ আগস্টের পর ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
‘ফুয়াদ হোসেন’ নামের একজনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেতাকর্মীরা।
তাদের দাবি, পৌরসভা ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী তাকে সংগঠনের নেতা হিসেবে চেনেন না। পাশাপাশি যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ নিরবসহ আরও কয়েকজন ত্যাগী নেতাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
নেতাকর্মীদের দাবি, ঘোষিত কমিটিতে সিনিয়র-জুনিয়র বিবেচনা যথাযথভাবে করা হয়নি এবং দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।
বিবৃতিতে নোয়াখালী-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক রায়হানের প্রতি বিষয়টি তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানানো হয়।
একই সঙ্গে বসুরহাট পৌরসভা ছাত্রদলের ঘোষিত কমিটি বিলুপ্ত করে অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে নতুন কমিটি পুনর্গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ঘোষিত কমিটির দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।