
প্রকাশিত
শাহাদাত হোসেন রাসেল
নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় দিন দিন ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে জনমনে উদ্বেগ বাড়লেও ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে উপজেলা প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতিও ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২ হাজার ২৪৮ জন এবং মারা গেছেন ৮৮ জন। শুধু সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ শুধু রাজধানী বা বড় শহরকেন্দ্রিক নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়ছে। চলতি বছর ঢাকার বাইরে খুলনা, চট্টগ্রাম, পিরোজপুর ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষার বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
কোম্পানীগঞ্জেও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়ার আগেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মশক নিধন অভিযান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলছেন, একজনের মৃত্যুর পরও যদি কার্যকর প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ দৃশ্যমান না হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কেন?
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
এ অবস্থায় কোম্পানীগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। দ্রুত মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করার পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী দিনগুলোতে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।