
প্রকাশিত
আইনাল ইসলাম।
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত মামলার প্রধান আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪ ময়মনসিংহ।
গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে ময়মনসিংহ র্যাব-১৪-এর একটি অভিযানিক দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৪-এর মিডিয়া উইংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.সামসুজ্জামান।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী শিশুর মা মদন থানায় আমানুল্লাহ সাগরকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃত আমানুল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে।
মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষকই অভিযুক্ত
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমানুল্লাহ সাগর ২০২২ সালে মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ওই মাদ্রাসায় তার স্ত্রী প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করছেন। ভুক্তভোগী শিশুটিও একই মাদ্রাসার ছাত্রী এবং একই এলাকার বাসিন্দা।
শিশুটির বাবা দীর্ঘদিন আগে পরিবার ছেড়ে চলে যান। জীবিকার তাগিদে তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। এ কারণে শিশুটি নানির কাছে থেকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।
ভয়ভীতি দেখিয়ে চুপ রাখার অভিযোগ
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটির সঙ্গে জঘন্য অপরাধমূলক আচরণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ঘটনার পর থেকে শিশুটি আতঙ্কে বিষয়টি গোপন রাখে।
মাদ্রাসার অপর এক শিক্ষক জানান, চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল ছুটিতে যাওয়ার কথা বলে আমানুল্লাহ সাগর মাদ্রাসা ত্যাগ করেন এবং আর ফিরে আসেননি। অন্যদিকে, গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে ভুক্তভোগী ছাত্রীও মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়।
শারীরিক পরিবর্তনে পরিবারের সন্দেহ, পরে ঘটনা প্রকাশ
পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সন্দেহ হলে তার মা সিলেট থেকে বাড়িতে এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন শিশুটি জানায়, মাদ্রাসার শিক্ষক তার সর্বনাশ করেছে।
এরপর তাকে মদন উপজেলার একটি বেসরকারি মেডিকেল সেন্টারে গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তারের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, শিশুটি প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে।
র্যাবের বক্তব্য
র্যাব-১৪ জানায়, মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে আটক করা হয়। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে মদন থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।