
প্রকাশিত,২৮, অক্টোবর,২০২১
মোঃ বাবুল নেত্রকোণা থেকেঃ
আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে চলছে প্রচার-প্রচারণা। এরই লক্ষ্যে নেত্রকোণা জেলায় নেত্রকোণা সদর উপজেলা,বারহাট্টা এবং আটপাড়া উপজেলায় আসছে ১১ নভেম্বর ভোট গ্রহণ।
কিন্তু গতকাল প্রতিক বরাদ্দের মধ্য দিয়েই শুরু হলো ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং বিশিউড়া আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় ভাংচুর, বারহাট্টা উপজেলার সাওতা ২নং ওয়ার্ড এবং সিংধা ইউনিয়নে স্বতন্র প্রার্থী সুজন চৌধূরীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট।
জানা যায়,
গতকাল নেত্রকোণা সদর বিশিউড়া ইউনিয়নে প্রতিক বরাদ্দ পাওয়ায় স্বতন্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান এবং কৃষকলীগ নেতা আবুল কালাম মোটর-সাইকেলের প্রতিকের প্রচার-প্রচারণা করার জন্য বিশিউড়া বাজারে যাওয়া মূহুত্বে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকার প্রার্থী বিশিউড়া ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সভাপতি মো: আবুবকর সিদ্দিকের লোকজন নিয়েও একই বাজারে প্রবেশকালীন সময়ে কথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ-এ জড়িয়ে পড়ে।
এতে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়। পরে নেত্রকোণা মডেল থানার থানা-পুলিশ ঘটনাস্স্থ্ল গিয়ে পুলিশের নিয়ন্রনে নিয়ে আসে।আওয়ামীলীগ প্রার্থী আবুবকর সিদ্দিক জানান,স্বতন্র প্রার্থী আবুল কালামের লোকজন আওয়ামী দলীয় কার্যালয় গিয়ে হামলা চালিয়ে চেয়ার টেবিল এবং জননেত্রীর ছবি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করেন। এ ব্যাপারে স্বতন্র প্রার্থী আবুল কালাম বলেন, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আবুবকর সিদ্দিক নিশ্চিত পরাজয় হবে জেনেই সে তার লোকজন দিয়ে আওয়ামী দলীয় কার্যালয় ভাংচুর করেন। স্বতন্র প্রার্থী আরো জানান আমি প্রতিক পাওয়ার পর আমার লোকজন নিয়ে প্রতিক প্রচার-প্রচারণার জন্য বিশিউড়া বাজারে আসি ঠিক সেই মূহুত্বে সিদ্দিকুর রহমানের লোকজন আমাদের উপর হামলা চালায় এবং আমি সহ আমার লোকজন আহত হয়।
একাধিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমাদের আওয়ামীলীগ দলীয় প্রতিক দেওয়ার জন্যই আজ নিজেরাই সংঘর্ষজনিত কাজে লিপ্ত হচ্ছে। অনেকেই লবিং-এ পেয়েছেন আবার অনেকেই নেতার আনুগত্য অনুযায়ী পেয়েছেন দলীয় মনোনয়ন তাতে করে মনঃক্ষোভে অনেকেই বিদ্রোহী হয়ে প্রার্থীতায় লড়াই করছেন। এতে করে দলীয়-কোন্দল, মারামারি ইভেন ভোটাদের মাঝেও হতাশাগ্রস্ত উপলব্ধি দেখা যাচ্ছে।
এ প্রসংঙ্গে নেত্রকোণা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাননীয় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু এমপির মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে রিসিভ না করায় উনার মূল্যবান বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নেত্রকোণা জেলা পুলিশের আইকন সৎ,দক্ষ পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সীর সংঙ্গে কথা হলে তিনি জানান,আমি জরুরী মিটিং করছি তবে আমার পুলিশ সবসময় সজাগ আছে এবং কেউ যেন শান্তি প্রিয় নেত্রকোণা জেলায় অশান্তি পরিবেশ সৃষ্টি না করে সে ব্যাপারে পুলিশ অপলক সু-সৃষ্টি থাকবে।
এ বিষয়ে নেত্রকোণা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং সু্যোগ্য জেলা প্রশাসক কাজি মো: আবদুর রহমান ফোন রিসিভ না করায় উনার মূল্যবান কথা নেওয়া সম্ভব হয় নাই।
নেত্রকোণা জেলা মডেল থানার বিচক্ষণ ওসি শাকের আহম্মেদ জানান,ঘটনার সংঙ্গে সংঙ্গেই আমার পুলিশ পরিবেশ শান্ত করেন এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ঘটনা ঘটিনি। তিনি আরো জানান, আমাদের পুলিশের অভিভাবক এসপি আকবর আলী মুন্সী স্যারের কড়া নির্দেশ যেন আগত ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে কোন উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা ব্যাগাত না ঘটে সে বিষয়ে সঠিক ভাবেই আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর ব্যবস্তা নেওয়া হবে। এমনকি সাধারণ ভোটাগন যাতে অবাধ,সুন্দর ভাবে ভোট প্রয়োগ করতে পারেন সেই ব্যবস্তা করার সুন্দর পরিবেশ থাকবে।