
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি,
উত্তাল তেতুলিয়া নদীর ভাঙ্গনের উন্মাদনায় ৫ শ পরিবারের আতঙ্কে দিন কাটছে। এ নদীর করাল গ্রাসে হারিয়ে গেছে বাড়ি ঘর এমনকি কবরস্থানও। জীবনের শেষ মূহূর্তে এসে হতাশায় জীবনযানপন করছেন গ্রামবাসী। রতনদীতালতলী ইউনিয়নের নিজহাওলা, বন্যাতলী স্লুইজের উত্তর ও দক্ষিণ পাশ, গ্রামর্দনের চার গ্রামের বাসিন্দারা বেড়িবাঁধ ভাঙ্গনের আতঙ্কে রয়েছে। অপরদিকে ঢেউয়ের তোড়ে বেড়িবাঁধের পাড় ভেঙ্গে ধ্বসে পড়ছে মাটি। এতে বন্যাতলী লঞ্চঘাটের উত্তর পাশের বেড়িবাঁধের প্রায় ৫-৬ শ মিটার রাস্তা ধ্বসে গেছে। তবে এ মাসের মধ্যেই দ্রুত এসব ভাঙ্গন প্রবন এলাকার কাজ শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেছেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক।
রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী লঞ্চঘাটের উত্তর পাশের শাহজাহান হাওলাদার বলেন, নদীর ভাঙ্গনে আমাগো সব হারাইছি। চার চার বার করে বাড়ি করেও সর্বস্ব হারিয়ে এখন কোনভাবে জীবিকা নির্বাহ করছি। বেড়িবাঁধ দেওয়ার পরেও প্রায় সাড়ে আট একর জমি নদীতে হারিয়ে গেছে। এখন আর এসব বেড়িবাঁধ দিয়ে কিছুই হইবে না,আমাদের টেকসই বাঁধ চাই। ব্লক দিয়ে বাঁধ দেয়া দরকার। বারবার ভাঙ্গা আর গড়ার খেলায় আমি এখন পুরোটাই নিঃস্ব হয়ে গেছি।
একই ইউনিয়নের গ্রামর্দন এলাকার ফরিদ হাওলাদার জানান, সর্বনাশা তেতুলিয়া নদী আমার ঘরসহ সব কেড়ে নিছে। কয়েকদফা ভাঙ্গনের পর ১২ বছর আগে পরিবার পরিজন নিয়ে একই ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকি। আমি আমার চোখেই ২শ থেকে আড়াই শ ঘরবাড়ি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে দেখেছি। নদীর উত্তাল ঢেউয়ে বেড়িবাঁধের পাড় প্রতিদিন ভেঙ্গে যাচ্ছে। এখন রাস্তাও ভাংছে।
রতনদী তালতলী ইউনিয়নের নিজহাওলা গ্রামের বারেক রাঢ়ী বলেন, দশ বছরে চারবার বাড়ি করেছি। এখন যে বাড়ি সেটাও হয়তো থাকবে না। প্রতি বছরই রাস্তার কাজ হয়। আবার বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভাঙ্গে। ভাঙ্গে বাড়িঘর। এহন সব সহ্য হয়ে গেছে। আল্লারে কই- মরার আগে আর নতুন বাড়ি করতে পারমু না। শক্তি অর্থ কোনটাই নাই। বর্ষা মৌসুম আইলেই মনের মধ্যে অজানা ভয় কাজ করে। আবার কখন বাড়িটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। সাথে যাবে বাপের কবরটাও।
নিজহাওলা গ্রামের সত্তার রাঢ়ীর স্ত্রী লুৎফা বেগম বলেন, আমার বাপের বাড়ি একই ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া গ্রামে। বিয়ের পর থেকে শ্বশুর বাড়িতেই আছি। এক সময় যে বাড়ি থেকে গাছের ডালপালা পাতা কুরিয়ে রান্নাবান্না করতাম অনেক আগেই নদীর গর্ভে হারিয়ে গেছে। আমার স্বামী একসময় এখানে ফসল ফলাতেন, জমিতে চাষাবাদ করতেন সবকিছুই এহন স্মৃতির মতো। এই নদীর ভাঙ্গনে ৫০একরের উপরে জমি নদীতে ভেঙ্গে গেছে। এহন আমরা নিঃস্ব।
এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুর হক বলেন, ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেছি। উনি জানান-রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বনাতলী লঞ্চঘাটের উত্তর পাশের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ রক্ষার্থে পান্নি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। বর্ষা মৌসুমের তীব্রতার আগেই কাজ শুরু হবে।