নতুন বার্তা দিচ্ছে বিএনপি?


deshsomoy প্রকাশের সময় : ২০২৩-১১-৩০, ৯:৩০ পূর্বাহ্ন /
নতুন বার্তা দিচ্ছে বিএনপি?
print news || Dailydeshsomoy

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কার্যত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে গত এক মাস আত্মগোপনে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। আট দফায় হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দিলেও তারা মাঠে ছিলেন নিষ্ক্রিয়। ভিডিওবার্তায় ঘোষণা করা হচ্ছিল কর্মসূচি। এ পরিস্থিতির মধ্যে একই দিনে হঠাৎ দুই শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে এসেছেন। অংশ নিয়েছেন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। সূত্র বলছে, হরতাল-অবরোধ দূরে রেখে আগের মতো জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে ফিরতে চায় দলটি। যদিও নির্বাচন সামনে রেখে নেতাদের এই খোলস ছেড়ে বেরোনো আরও কোনো বার্তা দিচ্ছে কি না সেটা স্পষ্ট নয়।
২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশে সংঘর্ষ ও হতাহতের পর অনেকটাই এলোমেলো হয়ে পড়ে বিএনপি। সারাদেশে গ্রেফতার হন কয়েক হাজার নেতা। এর পর থেকে দলটির নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থেকে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি পরিচালনা করছিলেন। এক মাস পর দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমান প্রকাশ্যে এসেছেন। ফিরে গেছেন কোনো ধরনের পুলিশি হয়রানি ছাড়াই। আপাতত হরতাল-অবরোধ না দিয়ে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি পালনের জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা। তারা বলছেন, এখন থেকে সব নেতাকেই প্রকাশ্যে দেখা যাবে।

সূত্র জানায়, হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দিয়েও মাঠেই নামতে পারছেন না বিএনপি নেতারা। সব জায়গায় তৎপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু আলোচনা সভা, সমাবেশ, গণমিছিল, পদযাত্রার মতো কর্মসূচি ছিল অনেকটা নির্বিঘ্ন। পাশাপাশি এসব কর্মসূচিতে গণজাগরণও তৈরি হয়েছিল।
বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আগামী সপ্তাহ থেকে সারাদেশে এ ধরনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। কর্মসূচিতে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতেই হরতাল-অবরোধের বাইরের কর্মসূচি আপাতত প্রাধান্য পাবে। সে কারণে আত্মগোপনে থাকা নেতারা খোলস ছেড়ে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন। এরই অংশ হিসেবে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংলাপে ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের কর্মসূচিতে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান অংশ নেন। হাইকমান্ডের নির্দেশেই তারা মাঠে নেমেছেন বলে জানা যায়।

দলীয় সূত্র জানায়, ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশের সংঘর্ষের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার অভিযানের কারণে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশ কারাগারে। বাকি অধিকাংশ নেতা এখনো রয়েছেন আত্মগোপনে। গত এক মাসে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাসসহ সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। প্রায় ৫০০ মামলা হয়েছে, আহত হয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার নেতাকর্মী।
এ অবস্থায় নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি ছাড়া ঢিলেঢালা নিষ্প্রাণ কর্মসূচি অনেকের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। তবে হরতাল-অবরোধে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিবহন চলাচলের চেষ্টা থাকলেও দূরপাল্লার পরিবহনগুলোতে যাত্রী না থাকার বিষয়টি বিএনপির কর্মসূচির প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন হিসেবেই দেখছে দলটি।

দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের পর ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেই গত এক মাসে অষ্টম দফা অবরোধ পালন করেছে বিএনপি। চলমান অবস্থায় দল বা অঙ্গসংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রতি হাইকমান্ডের নির্দেশনা ছিল সাময়িকভাবে গ্রেফতার এড়িয়ে চলার। এটা করতে গিয়ে কর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন নেতারা। বিশেষ করে রাজধানীতে কর্মসূচি পালনে গুটিকয়েক কর্মী নিয়ে ঝটিকা মিছিল ছিল বিএনপির একমাত্র ভরসা। অবশ্য সমমনা কয়েকটি ছোট দল বা জোট প্রেসক্লাব-পল্টন এলাকায় নিয়মিত কর্মসূচি পালন করে আসছে।

বিএনপির সমমনা একটি দলের নেতা বলেন, তফসিলের আগে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু সংলাপের আহ্বান জানিয়ে বড় তিন দলকে যে চিঠি দিয়েছেন সেটি মার্কিনসহ পশ্চিমাদের স্পষ্ট বার্তা যে, তারা বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন চান। সরকারের ওপর পশ্চিমাদের কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার সব কৌশল আছে বিএনপির। আর দেশের অভ্যন্তরে চাপ সৃষ্টির জন্যে তারা কর্মসূচি লম্বা করতে চান।
দলটির একাধিক সূত্র বলছে, বিএনপির হাইকমান্ড বিভিন্ন ইউনিটের নেতাদের মাঠে নামার নির্দেশনা দিয়েছে। নির্বাচন ঠেকাতে মাঠের আন্দোলনের কোনো বিকল্প দেখছেন না তারা। অনেকেই বলছেন নির্বাচনের দিন অর্থাৎ, ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত কর্মসূচি চলমান থাকবে।

প্রায় এক মাস পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্যের প্রকাশ্যে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রসঙ্গে দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার বলেন, ‘নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমান দলের পরীক্ষিত নেতা। সরকারের দমন-পীড়নের মধ্যে গতকাল আলাদা দুটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে দুটি বিষয় প্রমাণিত হলো- প্রথমত বিএনপি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বিশ্বাস করে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে, দ্বিতীয়ত নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমান সময়ের সাহসী সন্তান হিসেবে আবারও প্রমাণিত হয়েছেন।’
এখন থেকে সব নেতাকর্মীকে মাঠে দেখা যাবে জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আর পুলিশ কীভাবে গ্রেফতার আর হয়রানি করছে সেটি তো দেশের মানুষ জানেন। এর মধ্যেই কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা মাঠে ছিলেন।’
আত্মগোপনে থাকার পর হঠাৎ বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্যের প্রকাশ্যে আসা নিয়ে জানতে চাইলে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘বিএনপির যে দুজন নেতা প্রকাশ্যে আসছেন আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই। আরও আগে থেকেই তাদের আসা উচিত ছিল। আমরা আশা করছি এবার তারা মাঠে নামবেন। জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠের রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবেন। বিএনপির মতো একটি বৃহৎ জনসমর্থনপুষ্ট দলের নেতারা চাইলেই মাঠে আসতে পারবেন।’