
প্রকাশিত
স্টাফ রিপোর্টার:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার দক্ষিণ কুসুমপুর এলাকায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং মসজিদের মাইক বাজানো নিয়ে ধৃষ্টতা দেখানোর অভিযোগে রেজোয়ানুল হক (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গণধোলাই দিয়েছে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। গত সোমবার জোহরের নামাজের পর দক্ষিণ কুসুমপুর রিয়াজুল জান্নাত জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই রেজোয়ানুল হক মসজিদের আজান ও ধর্মীয় প্রচারণায় ব্যবহৃত মাইকের শব্দ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। সোমবার জোহরের নামাজ শেষে তিনি মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে মাইক নামিয়ে ফেলার দাবি তোলেন এবং মসজিদের সহ-সভাপতি গিয়াসউদ্দিনের (৬৫) সাথে তর্কে লিপ্ত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, রেজোয়ান এসময় মসজিদের মাইক নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং এক পর্যায়ে উপস্থিত মুসল্লি ও মসজিদ কমিটির কর্মকর্তাদের সাথে উদ্ধত আচরণ শুরু করেন।
রেজোয়ানের এমন আচরণে উপস্থিত সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এসে এমন ধৃষ্টতা দেখানোর অভিযোগে উত্তেজিত জনতা তাকে ঘেরাও করে এবং এক পর্যায়ে গণধোলাই দেয়। এসময় তার শার্ট ছিঁড়ে যায় এবং তিনি সামান্য আহত হন। স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে রেজোয়ান ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনার পর রেজোয়ান থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন এমন খবরে এলাকায় উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। এলাকাবাসীর দাবি, রেজোয়ান পরিকল্পিতভাবে মসজিদের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে এলাকার ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন।
মসজিদের সহ-সভাপতি গিয়াসউদ্দিন বলেন, "আমরা বছরের পর বছর ধরে এখানে ধর্মীয় নিয়ম মেনে মাইক ব্যবহার করছি। রেজোয়ান হঠাৎ এসে যেভাবে মাইক বন্ধের দাবি তুলেছে এবং উচ্চবাচ্য করেছে, তাতে সাধারণ মুসল্লিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আমরা তাকে মারধর করিনি, বরং উত্তেজিত জনতার হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।"