
প্রকাশিত,১৩ এপ্রিল, ২০২১
এম এইচ লিপু মজুমদার ধর্মপাশা প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় থাকা জননী এক্সরে ক্লিনিকের পরিচালক কমল সরকারের (৪৮) বিরুদ্ধে তাঁর ক্লিনিকের এক্সরে মেশিনটিতে নষ্ট এক্সরে ফ্লিম ব্যবহার করে আলী হোসেন (৩৮)নামের এক রোগীর ভূয়া প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সুবিচার চেয়ে উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের সাড়ারকোনা গ্রামের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী রোগীর মামা মোবারক হোসেন (৪০)উপজেলা সহকারি কমিশনারের (ভূমি) কাছে গত রোববার বিকেলে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বেরীকান্দি গ্রামের আলী হোসেন (৩৮) গত ১২ মার্চ সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পায়ের গোড়ালির অংশে আঘাত পেয়ে আহত হন। আহত ওই ব্যক্তি মোবারক হোসেন (৪০)নামের এক আত্বীয়ের সহায়তায় চিকিৎসা নিতে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আসেন। জরুরি বিভাগে থাকা লোকজনদের পরামর্শে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দক্ষিণপাশে থাকা জননী এক্সরে ক্লিনিকে আহত ওই ব্যক্তি তার ডান পায়ের গোড়ালির নীচের অংশের এক্সরে করান। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সাময়িক চিকিৎসা নিয়ে আহত ওই ব্যক্তি নিজ বাড়ি চলে যান। ১৩ মার্চ এক্সরে প্রতিবেদন আসলে এতে ডান পায়ের গোড়ালির কোনো অংশ ভেঙে কিংবা ফেটে যায়নি বলে এক্সরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আহত রোগীর অবস্থা অবনতি হওয়ায় গত ১৫ মার্চ আলী হোসেন ময়মনসিংহ যান। তিনি ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে (প্রান্ত স্পেশালাইজড হসপিটালে) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থো সার্জারির সহকারি অধ্যাপক মলয় কুমার রায় কে দেখান। তখন ওই চিকিৎসক নতুন করে এক্সরে করার পরামর্শ দিলে ওই এক্সরে ফ্লিমের ছবিতে রোগীর ডান পায়ের গোড়ালির নীচের অংশ ফাটল হয়েছে বলে ধরা পড়ে। পরে ওই চিকিৎসক ডান পায়ের ভাঙা স্থানে প্লাস্টার করে চিকিৎসা দেন। ওই চিকিৎসকের পরামর্শে দুর্ঘটনায় আহত ওই ব্যক্তি এখন সুস্থ আছেন।
আহত আলী হোসেনের মামা মোবারক হোসেন বলেন,জননী এক্সরে ক্লিনিকের পরিচালক কমল হোসেন তাঁর এক্সরে মেশিনে নষ্ট ফ্লিম ব্যবহার করে ভাঙা পাকে ভালো পা দেখিয়ে ভূয়া প্রতিবেদন দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন,একজন চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করে হয়তো কমল সরকার নিজেই এক্সরে প্রতিবেদনে স্কাক্ষর করেছেন বলে আমার মনে হচ্ছে। এতে শুধু আমার ভাগ্নে নয় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষজন প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।এ ঘটনায় সুবিচার চেয়ে আমি এসিল্যান্ড স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।
জননী এক্সরে ক্লিনিকের পরিচালক কমল সরকার বলেন, আমার এক্সরে মেশিন ও ফ্লিম দুটোই ঠিক আছে। এতে আমার কোনো দোষ নেই। যদি এক্সরে রিপোর্টের কোনো ভুল নয় সেটির জন যে ডাক্তার রিপোর্ট করেছেন (ডা. ইসমত জাহানই দায়ি)।
এক্সরে রিপোর্টার কাজে যার পদবী উল্লেখ করা হয়েছে তিনি ঢাকা মার্কস মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক ( রেডিওলজি ও ইমাজিং) ইসমাত জাহানের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেনি।
উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার (ভূমি) আবু তালেব বলেন,এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#