প্রকাশিত,০২,মে,২০২৩
খুলনা প্রতিনিধি ঃ
খুন, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্র রাখা ও সাংবাদিক কে প্রানে মেরেফেলার হুমকি প্রদান করা —এ রকম নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে দারুসসালাম থানা আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভিপতি পেট্রোল সোহেলের বিরুদ্ধে।
দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ইসলামের ছত্রছায়ায় ইসলামের সেকেন্ড ইন কমান্ড কথিত সেচ্ছাসেবকলীগ সহ-সভাপতি সোহেল ওরফে পেট্রোল সোহেল ও তার বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ লালকুঠি সহ আশেপাশের এলাকার মানুষ।
অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ মানুষের উপর অত্যাচার করে আসছেন ইসলামের সেকেন্ড ইন কমান্ড সোহেল ওরফে পেট্রোল সোহেল ও তার বাহিনী।
রাজনৈতিকভাবে দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পদ ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের ছবির সঙ্গে নিজের ছবি জুড়ে দিয়ে বাড়ির সামনে বিদ্যুতের খুঁটিতে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখেন এই পেট্রোল সোহেল।
বিভিন্ন সময় দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র সহ একদল সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে অত্র এলাকায় ঘোরাঘুরি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাখেন পেট্রোল সোহেল ও তার বাহিনীর সদস্যরা।
সামান্য কারণে অস্ত্র বের করে যাকে যখন খুশি ভয় দেখান ও জানে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করা তার নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে।
এলাকায় বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ কাজে চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি মাদকের কারবার ফিটিংবাজিং নিয়ন্ত্রণ সহ নানা অপকর্মে সরাসরি জড়িত পেট্রল সোহেল ও তার বাহিনী।
যতই দিন যাচ্ছে ততই যেন পেট্রোল সোহেল ও তার বাহিনী’র ক্যাডাররা মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়ে অত্র এলাকায় দাপটে শহীদ সন্ত্রাসের রাম-রাজত্ব কায়েম করছে।
তাদের অপকর্মে কেউ টু শব্দটি করলে তার উপর নেমে আসে ভয়াবহ নির্যাতনের স্টিমরোলার ভয়াবহ এই শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি পেট্রোল সোহেল ও তার বাহিনী’র অধিকাংশই বিএনপি থেকে অনুপ্রবেশকারী হওয়ায় তাদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি খোদ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও লাঞ্চিত হয়েছেন অনেক সিনিয়র নেতারাও।
এদের ভয়ে সাধারণ মানুষের দিন কাটে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর চরম আতঙ্কে তাদের দাপটে ভয়ে থাকে দারুসসালাম থানা আওতাধীন বিভিন্ন কল কারখানা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এমনকি ফুটপাতের ছোটখাটো দোকানদার রাও।
দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ইসলামের সেকেন্ড ইন কমান্ড সোহেল ওরফে পেট্রোল সোহেল ও তার বাহিনী’র অত্যাচার থেকে নিজেদের বাঁচাতে স্থানীয় অনেকেই তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করে অন্যত্র নিয়ে যায়।
বর্তমানে অত্র এলাকার অনেক ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাড়ির মালিকরা ভুগছেন চরম নিরাপত্তাহীনতায় পেট্রোল সোহেল ও তার বাহিনী’র তাণ্ডবে।
দারুসসালাম থানা আওতাধীন লালকুঠিসহ আশেপাশের সকল এলাকা পরিণত হয়েছে আতংকিত জনপদে।
পেট্রোল সোহেল ও তার বাহিনী’র প্রধান- গডফাদার দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ইসলামের একান্ত আশীর্বাদেই অত্র এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পেট্রোল সোহেল ও তার বাহিনী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানা ওয়ার্ড ও ইউনিটের রাজনৈতিক দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায় ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসলামের কোন অস্তিত্বই ছিল না।
হঠাৎ করেই ২০১১ সালে ঢাকা ১৪ আসনের প্রয়াত এমপি আসলামুল হক আসলাম সাহেবের বদৌলতে দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার কিছুদিন পরে দারুসসালাম থানা আওতাধীন অত্র এলাকার মধ্যে একক আধিপত্য গড়ে তুলতে শুরু করে এই ইসলাম।
টানা ৯ বছর আহ্বায়ক থেকে একটি অপরাধ সম্রাজ্য তৈরি করে অবৈধ টাকা ও ম্যানপাওয়ারের জোরে তিনি দারুসসালাম থানা বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি-পদটি বাগিয়ে নেন এর পর থেকে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
টাকার বিনিময়ে ও নিজের অপরাধ সাম্রাজ্য শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অপরাধ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে পারদর্শী বিভিন্ন জামায়াত-বিএনপির সক্রিয় সদস্যদের আশ্রয়-প্রশ্রয় এমনকি দলের পোষ্ট দিয়ে থাকেন মোঃ ইসলাম।
যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ১) এক সময়কার বিএনপির দাপটে নেতা এসে খালেকের ক্যাডার মোঃ আলিফ যাকে তিনি দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক নিযুক্ত করেন।
২) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মিছিলে পেট্রোল রোমানিক্ষেপ কারি পেট্রোল সোহেল যাকে তিনি দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পদে নিযুক্ত করেন।
কিন্তু বাস্তব চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন
পেট্রোল সোহেল হচ্ছে মোঃ ইসলামের অপরাধ সাম্রাজ্যের সেনাপতি মোঃ ইসলামের ইশারায় কথিত এই সহ-সভাপতি পেট্রোল সোহেল
দারুস সালাম থানা আওতাধীন বেশ কয়েকটি
এলাকায় প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি মাদক বাণিজ্য কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ সহ আশেপাশের সকল এলাকায় নানান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আসছে। দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি দেয়ার ব্যাপারে সাধারণ সম্পাদক ইমরান
মতির সঙ্গে কথা বললে তিনি অন্যায়ের চিত্র প্রতিবেদককে জানান যে।
দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে সক্রিয় জামাত-বিএনপির ক্যাডার বাহিনীদের পদ-পদবী দেয়ার ঘটনা এটিই নতুন নয়।
দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোঃ ইসলাম বেশ কিছু দিন আগেও ১৮/২০ টা মামলার আসামি সিটি কর্পোরেশনের সরকারি চাকরিজীবী আরেক বিএনপি নেতা মোঃ জামালকে দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা বানিয়েছিলেন।
এ ঘটনাটি তৎকালীন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এবং টিভি চ্যানেলে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর ওই নেতা চাকরিচ্যুত হন এবং মোঃ ইসলাম দলীয় চাপের মুখে তাকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হন।
ইমরান মোতি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আরো বলেন যে কমিটিতে নতুন করে কাউকে নিযুক্ত করতে হলে সভাপতি ও সম্পাদকের সমন্বয়ে লিখিত প্যাডে ঘোষণা দিতে হয় কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য যে সভাপতি মোঃ ইসলাম আমার সরলতা ও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামে চিঠি ইস্যু করার কথা বলে দলীয় সাদা প্যাডে
স্বাক্ষর ও নেন।