
প্রকাশিত
সোহাগ হোসেন বেনাপোল প্রতিনিধিঃ
দশ বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরে গেল ভারতের ওড়িশার যুবক সুদাম হেমরম। স্মৃতিশক্তি হারানো অবস্থায় কিভাবে তিনি ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের যশোরের শার্শায় এসে পৌঁছেছিলেন তা এখনও রহস্য।
রবিবার (০৭ ডিসেম্বর) দুপুরে বেনাপোল বন্দর হয়ে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে প্রবেশ করে। সুদাম হেমরমকে তার ভাইপো তাকে গ্রহন করেন।
রাজশাহীর চাপাইনবয়াবগঞ্জ এলাকায় তাকে অসুস্থ ও অচেনা অবস্থায় ঘুরে বেড়াতে দেখে স্থানীয় সমাজকর্মী মো. আবদুল গনি ফিতু মানবিক সহায়তার হাত বাড়ান। তিনি সুদামকে চিকিৎসা করান, নিরাপদ আশ্রয় দেন এবং তার কথাবার্তা থেকে 'জয় জগন্নাথ' উচ্চারণ শুনে সন্দেহ করেন তিনি সম্ভবত ভারতের ওড়িশা অঞ্চলের বাসিন্দা। ফিতু বিষয়টি জানান বাংলাদেশ হ্যাম রেডিওকে জানান।যারা দ্রুত যোগাযোগ করেন পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার হ্যাম নেটওয়ার্কের সঙ্গে। কয়েক দিনের অনুসন্ধানেই নিশ্চিত হয় এই স্মৃতিহীন ব্যক্তি আসলেই ভারতের ময়ূরভঞ্জ জেলা থেকে দশ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া সুদাম হেমরম।
ঘটনা জানাজানি হলে ভারতের ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল–এর ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট বোর্ডের সংগঠক উৎপল রায় সরাসরি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্ত্রি এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার অর্নব ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই শেষ করে দুই দেশই তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আজ বেনাপোল পোর্ট দিয়ে সব আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যখন সুদামকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়, তখন আবেগে ভেঙে পড়েন তার স্বজনরা। তাদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটে অশ্রুসিক্ত এক মিলনমেলায়। সুদামের এই প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করল মানুষ পথ হারালেও, মানবতা কখনও হারায় না।
০৭/১২/২০২৫