
প্রকাশিত,০৯, মার্চ,২০২৩
দিনাজপুর প্রতিনিধি॥
দিনাজপুর জেলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি সিঁড়ির নিচ থেকে শাহরিন আলম বিপুলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ৪ জন গ্রেফতার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ত্রিভূজ প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিপুলকে হত্যা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) দুপুর ১ টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ের এক প্রেস বিফ্রিংয়ে বিষয়টি জানায় পুলিশ সুপার শাহ্ ইফতেখার আহম্মেদ। এর আগে গত শনিবার (৪ মার্চ) সকাল ৯টায় দিনাজপুর জেলা স্টেডিয়ামের ভেতরে হত্যা কান্ডের শিকার হন শাহরিন আলম বিপুল। পরে সোমবার (৬মার্চ) স্টেডিয়ামের গ্যালারি সিঁড়ির নিচ থেকে বিপুলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- হত্যা কান্ডের মূলহোতা দিনাজপুর সদর উপজেলার শালকী (বোয়ালমাড়ী) এলাকার রশিদের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২০)। অন্য তিন সহযোগীরা হলেন- ৬নং উপশহরের উজ্জল হোসেনের ছেলে শাকিব শাহরিয়ার (২২), নিশ্চিতপুর এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে আশরাফুল হোসেন মিলন (১৮) এবং ৭নং উপশহর এলাকার হামিদুর রহমানের ছেলে আসিফ মাহমুদ হৃদয় (১৯)।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, আসামী দেলোয়ার হোসেনের সাথে মাহামুদা (ছন্দনাম) নামের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আর মাহামুদার বান্ধবী ছিল পুরভী (ছদ্মনাম)। মাহামুদা দেলোয়ারের সাথে কথা বলা বন্ধ করায়, পুরভীর কাছে মাহামুদার খোঁজ খবর নিত দেলোয়ার। খোঁজ খবর নেয়ার এক পর্যায়ে পুরভীকে পছন্দ করতে শুরু করে দেলোয়ার। দেলোয়ার পুরভীকে রাস্তায় দারিয়ে ২ বার কথাও বলেছে। কিন্তু কিছুদিন পর পুরভীর সাথে শাহরিন আলম বিপুলের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে। যা দেলোয়ার কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না। ফলে দেলোয়ার শাহরিন আলম বিপুলকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, শাহরিন আলম বিপুল ছবি তুলতে পছন্দ করতেন। এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে দেলোয়ার ঝধশরন অযসবফ ঝাঁড় নামে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে বিপুলেরসাথে কথোপকথন শুরু করে। ৩ দিনের ব্যবধানে দেলোয়ার, বিপুলের বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয় এবং ক্যামেরা ধার দেয়ার প্রলোভন দেখায়। একটি ছেলে দাড়িয়ে থাকবে মর্মে গত শনিবার (৪ মার্চ) সকাল ৯ টায় দেলোয়ার দিনাজপুর স্টেডিয়ামে ক্যামেরা নিতে আসার জন্য বলে বিপুলকে এবং বিকাশে যাতায়াত বাবদ ১০০ টাকা প্রদান করে। এই পাঁতানো ফাঁদে পা দেয় বিপুল। বিপুল স্টেডিয়ামে আসলে প্রথমে পুরভীকে নিয়ে তর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে বিপুলকে মাথার পিছন থেকে আঘাত করে তারা। পরে গলায় চাকু দিয়ে আঘাত করে বিপুলের মৃত্যু নিশ্চিত করে।
পুলিশ সুপার বলেন, আবর্জনা দিয়ে বিপুলের মরদেহ তারা ঢেকে রাখে। দেলোয়ার বিপুলের সাথে মোবাইলের মেসেঞ্জারের কথাবার্তা ডিলিট করে ভূয়া ফেসবুক আইডি বন্ধ করে দেয়। মূলত একটি ত্রিভুজ প্রেমের সূত্র ধরেই এই হত্যা কান্ড ঘটেছে। অভিযান পরিচালনা করে আসামীদের শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।