
মেহেদী হাসান শাহীন
গাজীপুর।
দরিদ্র পরিবারের বাবা-মায়ের আদরের একমাত্র শিশু সন্তান হাসিফ। স্থানীয় একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। মাত্র বয়স তার পনেরো বছর। যে বয়সে হাসি-খুশি কান্নাকাটি, খুনসুঁটিতে মেতে থাকার কথা সেই সময়ে শিশুটির দিনরাত কাটে কান্নাকাটি করে। জীবনের শুরুর সময় সামান্য এ বয়সে শিশুটিকে একাধিকবার ভর্তি হতে হয়েছে হাসপাতালে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তার অসুস্থতা।
গাজীপুর মহানগরীর ১৩ নং ওয়ার্ডের কড্ডা কাঁঠালিয়া পাড়ার অসহায় দরিদ্র দিন মজুরি দুলাল বেপারি ও রিনা বেগম দম্পতির চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে দিলারা বেগম মেঝো, অভাব অনটনের সংসারে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার গলাচিপা গ্রামের মমিন উদ্দিনের ছোট ছেলে খোরশেদ আলমের সাথে ২০০৫ সালে বিয়ে হয় তার। আর্থিক অসচ্ছলতা দূরীকরণের জন্য ২০১১ সালে গাজীপুরের ১৩ নং ওয়ার্ডের কড্ডা গোলটেকের সিরাজুল ইসলাম সিরুর বাড়িতে বাড়া বাসা নেয় দিলারা খোরশেদ আলম দম্পতি। তাদের সংসারে দুটি সন্তানের জন্ম হয়, একটি ছেলে একটি মেয়ে, বাবা-মা ভালোবেসে সন্তানের নাম দিয়েছে মোঃ হাসিফ ইসলাম, বাবা-মা স্বপ্ন দেখতেন ছেলে বড় হয়ে বড় পুলিশ অফিসার হবেন, কিন্তু ভাগ্যের চাকা উল্টো হয়ে স্কুল পরুয়া হাসিফের মরণব্যাধি দুরারোগ্য হার্টে চারটি সিদ্র সমস্যা ধরা পড়েছে। কখনো শ্বাসকষ্ট, আবার কখনো বারবার বমি ও হাসপাতালের বিছানা এখন নিত্যসঙ্গী এই শিশুর। উন্নত চিকিৎসা এবং অপারেশন ছাড়া সুস্থ হওয়া সম্ভব নয় হাসিফের। এর জন্য বিপুল অংকের টাকার প্রয়োজন। দিনমজুর বাবার পক্ষে ছেলের চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। সম্প্রতি হাসিফ অসুস্থ হলে মা দিলার বেগম তার শেষ সম্বল টুকু ও কিছু জমানো টাকা ছিল তা দিয়ে ছেলের চিকিৎসা করিয়েছেন। ছেলের চিন্তায় এখন দিশেহারা অসহায় বাবা-মা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনমজুরি করে কোনোমতে সংসার চালান খোরশেদ আলম। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে টেনেটুনে সংসার চললেও সুখের অভাব ছিল না পরিবারে। কিন্তু বয়স বাড়ার মাথায় হাসিফের অসুস্থতা বোধ দেখা দেয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে কবিরাজ দিয়ে চিকিৎসা করান। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে যতদিন গড়িয়েছে হাসিফ ততই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এ পর্যন্ত হাসিফের চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকা ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছে তার পরিবার। এমতাবস্থায় মা দিলারা বেগম কয়েকটি এনজিও থেকে তিন লক্ষাধিক টাকার মতো কিস্তি ও সুদের উপর টাকা ধার নিয়েছেন, কিন্তু এখনো প্রায় এক লক্ষ টাকার মতো প্রয়োজন।
সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থ হলে হাসিফ গাজীপুরের শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ আমজাদ হোসেন খানকে দেখান। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষায় ধরা পড়ে হাসিফের হার্টে চারটি ছিদ্র রয়েছে। হাসিফের অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে খুব তাড়াতাড়ি করে তাকে ঢাকায় বেসরকারি একটি হাসপাতালে(রুমানিয়া প্রাইভেট ক্লিনিক)নিয়ে উন্নত চিকিৎসা এবং অপারেশনের পরামর্শ দেন।
পরে হাসিফকে রুমানিয়া প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রায় ব্যয় হতে পারে চার লক্ষ টাকার মতো। তাদের জমানো টাকা ও কিস্তির টাকা মিলে হাসপাতালে ভর্তি করান মা দিলারা বেগম। এদিকে অসহায় এই পরিবারের কাছে অপারেশন বাবদ চারলক্ষ টাকা খরচ চাওয়া হয়েছে। এখন প্রায় এক লক্ষ টাকার মতো বাকি আছে। করুণ চাহনিতে ছেলের যন্ত্রণা মুখ বুজে সহ্য করছেন অসহায় বাবা-মা।
কান্নাজড়িত কন্ঠে মা দিলারা বেগম বলেন, যখন শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তখন মনে হয় ছেলে মারা যাবে। ওই সময় কোনো দিশা না পেয়ে ছেলেকে বাঁচাতে মুখের সঙ্গে মুখ লাগিয়ে আমার নিজের নিঃশ্বাস দেই। দম বন্ধ হয়ে আসে, তবুও বাঁচুক আমার ছেলেটা। আমার শেষ সম্বল যা ছিল তা দিয়ে ছেলের চিকিৎসা করাচ্ছি, এখন আমাদের আর কোনো সম্বল নেই। যা টাকা পয়সা জোগাড় করেছি তার মধ্যেই কিছু টাকার মতো কম আছে। এ সময় আমার একমাত্র ছেলে হাসিফকে সুস্থ করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ও সমাজের বিত্তবান ও ধনী মানুষদের এগিয়ে আসার আহবান জানাই, যাতে সকলের সহযোগিতায় আমার বুকে ফিরে আসে আমার হাসিফ।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হাজ্বী মোঃ আরিফ হোসেন বলেন, ছেলেটি দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ হওয়ায় শিশুটিকে যতদূত সম্ভব হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করানো জরুরি, পরিবারটি খুবই গরীব, হাওলাত করে, কিস্তি তোলে ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে গেল। পরিবারটি খুবই অসহায়। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে হয়তো শিশুটি সুচিকিৎসা পেত। এজন্য সবাইকে আহবান জানাই এই শিশুর পাশে থেকে সবাই নিজ নিজ সাধ্য মতো টাকা-পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করবেন।
হাসিফের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে বা সহযোগিতা করতে চাইলে এই নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন।
## 01961-813746 (বিকাশ- পারসোনাল)