
প্রকাশিত,২৪, ডিসেম্বর,২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
ঝালকাঠিতে এমভি অভিযান-১০ নামের একটি যাত্রীবাহী লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লঞ্চের দগ্ধ যাত্রীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
দগ্ধদের দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর নির্দেশ
দগ্ধদের দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর নির্দেশ
ঝালকাঠিতে অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. লোকমান হোসেন মিয়া।
শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে মোবাইলে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার খোঁজ নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের তিনি এ নির্দেশ দেন।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. লোকমান হোসেন মিয়া আহতদের খোঁজখবর নিয়ে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালন করতে বলেন। এসময় তাকে হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় বিশেষজ্ঞ ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাঠানোর অনুরোধ করেছি।’
তিনি আরও জানান, ‘ভোর থেকে এ পর্যন্ত ৭২ দগ্ধকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। আশঙ্কাজনক আরও দুজনকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার দিনগত রাত রাত ৩টার দিকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের ইঞ্জিনে আগুন লাগে। মুহূর্তে আগুন পুরো লঞ্চে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৪০ জন নিহত ও আরও অন্তত কয়েক যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। হতাহতদের কারো নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠির কোস্টগার্ডসহ ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট উদ্ধারকাজ করছেন। দগ্ধদের মধ্যে ৭২জনকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বরিশাল, ঝালকাঠিসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হতাহতদের কারো নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক কামাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৪০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন বেশ কয়েকজন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
হাসপাতালে দগ্ধদের আর্তনাদ, বাইরে স্বজনদের আহাজারি
হাসপাতালে দগ্ধদের আর্তনাদ ও বাইরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ।
শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোর থেকে হাসপাতলে দগ্ধদের নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাইরে ভিড় বাড়তে থাকে স্বজনদের। সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, ভোর থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ৭০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজনের শরীর ৫০ ভাগ পুড়ে গেছে। ৫০-৮০ ভাগ দগ্ধ ২০ জনের মতো রোগী রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, অগ্নিদগ্ধ তিনজনকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। আশঙ্কাজনক আরও দুজনকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, দগ্ধদের হাসপাতালে আনার সময় স্বজনরা অনেকের সঙ্গে ছিলেন না। পরে খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে ভিড় করছেন। রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় তাদের হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, লঞ্চটিতে হাজারখানেক যাত্রী ছিলেন। সুগন্ধা নদীতে থাকাবস্থায় লঞ্চটিতে আগুন লাগে। পরে পার্শ্ববর্তী দিয়াকুল এলাকায় বিপর্যস্ত লঞ্চটি ভেড়ানো হয়।
লঞ্চের একাধিক যাত্রী জানান, রাত ৩টার দিকে লঞ্চের ইঞ্জিন রুমে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। পরে সে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে। এসময় লঞ্চে বেশ কয়েকজন যাত্রী দগ্ধ হন। প্রাণে বাঁচতে অনেকে নদীতে ঝাঁপ দেন।
এদিকে অগ্নিকাণ্ড থেকে বাঁচতে নদীতে লাফিয়ে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশের ডুবুরি দল। শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে তিন বাহিনীর তিন দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
অগ্নিকাণ্ড তদন্তে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।