
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক অসহায় নারী শিপ্রা রানী আজ মানবেতর জীবনযাপনের করুণ প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। স্বামীর পরিত্যক্ত হয়ে সন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছেন তিনি।
গোলখালী গ্রামের বাসিন্দা বিমল গাইনের মেজো মেয়ে শিপ্রা রানী। জীবনের নির্মম বাস্তবতা তাকে ঠেলে দিয়েছে এক অনিশ্চিত অন্ধকারে। সংসারের কোনো স্থায়ী উপার্জন না থাকায় তিনি গ্রামে গ্রামে মানুষের বাসায় কাজ করে কোনোমতে দিন পার করেন। কিন্তু সেই সামান্য আয়ে সংসারের ভাত জোটানোই যেখানে কঠিন, সেখানে মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয় তার কাছে যেন অধরা স্বপ্ন।
সম্প্রতি চৈত্র মাসের ঝড়ে তার ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরটিও ভেঙে যায়। ঝড়ের তাণ্ডবে যেন শুধু একটি ঘর নয়, ভেঙে গেছে তার বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়টুকুও। এখন তিনি পলিথিন দিয়ে কোনোমতে একটি অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন। বৃষ্টি-রোদ, ঝড়-ঝঞ্ঝা—সবকিছুর মধ্যেই চলছে তাদের টিকে থাকার নিরন্তর সংগ্রাম।
কাঁদতে কাঁদতে শিপ্রা রানী বলেন, “ঘর তুলবো তো দূরের কথা, দুই বেলা খাইতে পারি না ঠিকমতো। ঝড়ে আমার ঘরটা শেষ হয়ে গেছে। এখন পলিথিনের নিচে থাকি। বাচ্চাগুলারে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাই। আমাদের দেখার মতো কেউ নাই।”
স্থানীয়রা জানান, শিপ্রা রানীর এই দুর্দশা নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক ঝড় তার অবস্থাকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। প্রতিদিনই তিনি জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন, কিন্তু পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই।
এলাকাবাসীর দাবি, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে শিপ্রা রানীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহানুভূতি ও সহায়তা তার জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে।
মানবতার প্রশ্নে এখন সবার কাছে একটাই আহ্বান—শিপ্রা রানীর পাশে দাঁড়ান, তার সন্তানদের মুখে একটু হাসি ফিরিয়ে আনুন।