চাঁদপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ত্যাগী নেতাকে চান নেতাকর্মীরা


দেশ সময় প্রকাশের সময় : ২০২৫-১০-২৯, ৫:০৯ অপরাহ্ন /
চাঁদপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ত্যাগী নেতাকে চান নেতাকর্মীরা
print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

সুমন আহমেদ, মতলব (চাঁদপুর)

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিন) আসনে ত্যাগী ও দুর্দিনে পাশে থাকা নেতাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। 

তাদের মত, নইলে বিএনপি এ আসনটি নিশ্চিত হারাবে। কারণ, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে মতলবের রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলো ছিল কোণঠাসা।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে থাকলেও অনেকটা গোপনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে। তবে গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ এর ০৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে যাওয়ার পরে এক রকম প্রতিযোগিতা দিয়েই মাঠে সক্রিয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

আসনটিতে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপার্সন এর উপদেষ্টা ও সাবেক তথ্য সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হুদার জ্যেষ্ঠ পুত্র চাঁদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হুদা, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. জালাল উদ্দীন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি শুক্কুর পাটোয়ারী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ব্যারিষ্টার ওবায়দুর রহমান টিপু, জেলা বিএনপির সদস্য ড. মাহবুব আহমেদ শামীম, ও বিএনপি নেতা আনিসুল আউয়াল মনোনয়ন প্রত্যাশী। কর্মীরা মনে করেন, কর্মীবান্ধব নেতাকে মনোনয়ন দিলে জয় নিশ্চিত হবে।

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, আওয়ামী লীগের প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে মামলা-হামলা ও জেল-জুলুমে নির্যাতিত কর্মীদের পাশে ছিলেন,

সাবেক মন্ত্রী পুত্র চাঁদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হুদা। তিনি তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। কর্মীরা বলেন, বিএনপি’র রাজনীতিতে এক নির্ভীক সৈনিক তানভীর হুদা। বিগত দিনে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জেলার মধ্যে মতলব উত্তর দক্ষিণে সর্বোচ্চ আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে।

কর্মীদের দাবি, সুসময়ে বহু অতিথি বিএনপির রাজনীতিতে দেখা গেলেও দুঃসময়ে তাদের দেখা যায়নি। তানভীর হুদা দলের যেকোনো বিপর্যয়ের সময় চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিন) থেকে শুরু করে জেলা ও ঢাকার রাজপথে দলের আন্দোলন-সংগ্রামেও অংশগ্রহণ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দুর্দিনে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন তিনি। অসহায় ও নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের নিয়মিত খোঁজখবর রেখেছেন। এখনো তিনি ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিতকরণে এবং তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নে ব্যাপক গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। তিনিই ধানের শীষ প্রতীকের একমাত্র দাবিদার।

এদিকে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. জালাল উদ্দীন সমর্থিত নেতাকর্মীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি আন্দোলন সংগ্রামের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ এবং বিএনপির নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন।

জেলা বিএনপির সহসভাপতি শুক্কুর পাটোয়ারী সমর্থিত নেতাকর্মীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি আন্দোলন সংগ্রামের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ এবং বিএনপির নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

এদিকে মতলব উত্তর-দক্ষিন তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ঐক্যবদ্ধ নেতাকর্মীরা দলের ভেতরে ও বাইরে কোনো অপশক্তির ষড়যন্ত্র মেনে নিবে না। ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিতকরণে তারা ত্যাগী ও দুর্দিনে পাশে থাকা নেতাকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান।

তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গত ১৬ বছর সর্বোচ্চ সংখ্যক বিএনপির নেতাকর্মী সর্বোচ্চ মামলা-হামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। এই সময়ে অভিভাবক হিসেবে যিনি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছেন, তার প্রার্থিতা নিশ্চিত হলে ধানের শীষের বিজয়ও নিশ্চিত হবে।