
প্রকাশিত
মোঃ শিহাব উদ্দিন
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ১৫ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মো. আবু সোহেল জনি শেখ।
স্থানীয় মানুষের পাশে থাকা, এলাকার উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হচ্ছেন তিনি। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর এই ঘোষণাকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে যাওয়ার আগে স্থানীয় বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রায় ৫০০ সনাতন ধর্মাবলম্বীর সঙ্গে দুপুরের খাবারে অংশ নেন জনি শেখ। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জনি শেখ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন দুর্যোগ ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার কারণে স্থানীয়দের একটি অংশের কাছে তিনি মানবিক ও জনবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
জনি শেখ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে বিভিন্ন সময়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এসব পরিস্থিতিতেও দলের আদর্শ থেকে সরে যাননি বলে দাবি তাঁর।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জনি শেখ বলেন, “আমি আসন্ন দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চাই। ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ, এলাকার উন্নয়ন এবং জনসেবা করাই আমার লক্ষ্য। মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে একটি উন্নত, জনবান্ধব ও বাসযোগ্য ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, এলাকার মানুষের মৌলিক সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে কাজ করতে চান। নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের কথা শোনার মতো একটি কার্যকর স্থানীয় সরকারব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা তাঁর।
দলীয় সমর্থনের বিষয়ে জনি শেখ জানান, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবরের কাছে তিনি দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা করছেন। তবে এ বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আসন্ন দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কারা প্রার্থী হবেন এবং দলীয় সমর্থন কার ভাগ্যে জুটবে, তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে। তবে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে জনি শেখ নিজের নির্বাচনী প্রস্তুতির বার্তা দিয়েছেন।