
প্রকাশিত
মোঃ মুক্তাদির হোসেন,
স্টাফ রিপোর্টার।
প্রেস রিলিজ
মোছাঃ জাকিয়া বেগম(৩৮)(বাদী), পিতা-মোঃ শুকুর মাহমুদ, মাতা-জামেলা খাতুন, স্বামী-আঃ জলিল, সাং-জলছত্র বাজারের পূর্ব পাশে, থানা-মধুপুর, জেলা-টাঙ্গাইল কালিয়াকৈর থানায় লিখিতভাবে জানান যে, তার মেয়ে সাহেরা(১৭) এর সাথে মোঃ শ্যামল (২১), পিতা-সিরাজ, ভাটিকাশর মুরগি ওয়ালার বাড়ী, থানা-কোতয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ নানার বাড়ী সাং-গোবিদা কাররাইদ, থানা-মধুপুর, জেলা-টাঙ্গাইল এর সাথে আনুমানিক এক বছর পূর্বে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়। বিয়ের পর হতে সাহেরা (১৭) ও তার স্বামী মোঃ শ্যামল গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানাধীন মৌচাক লোহাকৈর জামতলা সাকিনন্থ জনৈক মানিক মিয়ার টিনসেড ঘরে ভাড়া থাকত। ভিকটিম সাহেরা (১৭) হানিফ স্পিনিং মিলে চাকরি করত এবং ভিকটিমের স্বামী শ্যামল (২১) বিভিন্ন গাড়িতে হেলপার এর কাজ করত। উল্লেখ্য আব্দুল জলিল বাদিনীর দ্বিতীয় স্বামী। ভিকটিম সাহেরা (১৭) বাদিনীর প্রথম ঘরের মেয়ে। ভিকটিমের স্বামী শ্যামল (২১) বাদিনীর বর্তমান স্বামীর ছোট বোন স্বপ্না বেগম(৪০) এর ছেলে। ভিকটিম এর স্বামী একজন মাদকাসক্ত ছিল। গত ১০-০৬-২০২৬খ্রি. ভোর রাত আনুমানিক ০৪:৩০ ঘটিকায় বাদিনী তার স্বামীর মাধ্যমে জানতে পারে যে, তার মেয়ে ভিকটিম সাহেরার সমস্যা হয়েছে। পরবর্তীতে বাদীনি তার স্বামীকে নিয়ে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানাধীন মৌচাক লোহাকৈর জামতলা সাকিনস্থ জনৈক মানিক মিয়ার টিনসেড ঘরে এসে মেয়ের মৃতদেহ দেখতে পায় এবং তার গলায় কালো জখম ছিল। বাদিনীর ধারণা গত ০৯-০৬-২০২৬খ্রি. রাত আনুমানিক ২১:৩০ ঘটিকা হতে গত ১০-০৬-২০২৬ খ্রি. রাত আনুমানিক ০২:০০ ঘটিকার মধ্যবর্তী সময়ে তার মেয়ের জামাই ঘাতক শ্যামল (২১)’সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন ভিকটিমকে গলাটিপে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখে। সংবাদের ভিত্তিতে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গাজীপুর মর্গে প্রেরণ করে। এ সংক্রান্তে বাদীনির লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কালিয়াকৈর থানার মামলা নং-৩২, তারিখ: ১৪-০৬-২০২৬খ্রি. ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ)/মোঃ ওমর ফারুক (01711707708)।
ঘটনার পর পর ভিকটিমের স্বামী শ্যামল (২১) পলাতক যায়। মামলাটি রুজু হবার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযান পরিচালনা করে সন্ধিগ্ধ আসামী হিসেবে ভিকটিমের ১। স্বামী শ্যামল (২১)সহ, আসামী ২। মানিক মিয়া (৪০), পিতা-মৃত আমীর উদ্দিন, সাং-মৌচাক লোহাকৈর, ৩। রমেশ (৩৫), পিতা-মৃত প্রেমচরণ, সাং-মৌচাক লোহাকৈর, উভয় থানা-কালিয়াকৈর, জেলা-গাজীপুরদের গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনের নিমিত্ত বিজ্ঞ আদালতে আসামীদের রিমান্ডের আবেদন করে। বিজ্ঞ আদালত আসামী শ্যামল (২১) কে ০২ দিনের এবং অপর ০২জন আসামীদের ০১ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে ভিকটিমের স্বামী আসামী শ্যামল (২১) স্বীকার করে যে, সে নিজে ভিকটিমকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। অতপরঃ তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামী শ্যামল (২১) এর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী গ্রহণের জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করলে অদ্য ১২-০৮-১২০৮২০২৬ইংখ্রি. আসামী শ্যালম (২১) তার স্ত্রী ভিকটিম সাহেরা (১৭)’কে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায় স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত আছে।