
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। চলমান বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও চলাচলের উপযোগী রাস্তার অভাবে বছরের অধিকাংশ সময়ই তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে থাকেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও ওই ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। অনেক বাড়ির আঙিনা ও সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বাসিন্দাদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের প্রায় নয় মাসই জলাবদ্ধতায় তাদের দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ময়লা ও পচা পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন দুর্ভোগে পড়ছে, তেমনি পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। আধুনিক পৌরসভার নাগরিক হয়েও মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এক ব্যবসায়ী মো. মাহাবুব হোসেন বলেন, “আমরা গলাচিপা পৌরসভার সবচেয়ে অবহেলিত এলাকার বাসিন্দা। নিয়মিত সরকারি কর ও রাজস্ব পরিশোধ করলেও রাস্তা ও ড্রেনেজ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছি।”
প্রবীণ শিক্ষক মো. মহসিন (মাস্টার) বলেন, “জন্ম থেকেই এ দুর্ভোগ দেখে আসছি। প্রথম শ্রেণির পৌরসভার বাসিন্দা হয়েও সারা বছর ময়লা পানির মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে। অসংখ্যবার আবেদন-নিবেদন করেও কোনো সুফল পাইনি। জীবদ্দশায় আদৌ নাগরিক সুবিধা পাব কি না, সেটিও জানি না।”স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, রাস্তা সংস্কার এবং স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চ ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গলাচিপা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। পৌরসভার আয়তন ৩.৩৯ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ২৫ হাজারের বেশি।
এ বিষয়ে গলাচিপা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “নিরাপদ বাসস্থান, উন্নত সড়ক, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অন্যান্য নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।”