
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
গলাচিপায় হাম ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় ওয়ার্ডগুলোতে তৈরি হয়েছে ভিড়। এতে রোগীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হাম আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীদের পাশাপাশি অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা।
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক মাসে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৪ জন এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০৩ জন ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন।
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৪ জন এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমানে বুধবার পর্যন্ত হাম আক্রান্ত ২১ জন এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯ জন ভর্তি রয়েছেন।
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ জন রোগীর ধারণক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ১৪৮ জন। অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় সাধারণ রোগী ও সংক্রামক রোগীদের আলাদা রাখার জন্য কোনো কক্ষ বা বেড সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে রোগীদের করিডোর ও মেঝেতে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে।
গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলা গ্রামের সালমা বেগম বলেন, “চার দিন আগে আমার মেয়ে সারামনি হামে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু আমার মেয়ের পাশের বেডেই একজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। পাশাপাশি দুই ধরনের রোগী থাকায় আমি আমার মেয়েকে নিয়ে শঙ্কার মধ্যেই চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছি।”
ওই ইউনিটে সারামনির পাশের বেডে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডাকুয়া ইউনিয়নের বড়চত্রা গ্রামের এবাদুল মিয়া। তিনি বলেন, “আমি তিন দিন ধরে হাসপাতালে আছি। কিন্তু আমার চারপাশে হামের রোগী ভর্তি আছে। হাসপাতালের নার্সদের কাছে কয়েকবার মশারি চেয়েও পাইনি। হামে আক্রান্ত শিশুদের পাশাপাশি থাকতে আমারও খারাপ লাগে। কিন্তু চিকিৎসা তো নিতে হবে।”
এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “আমাদের এখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে তিন গুণ রোগী ভর্তি আছে। আমাদের প্রতিদিনই এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “হাম রোগীদের জন্য আলাদা পাঁচটি বেডের ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু অতিরিক্ত রোগীর চাপে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। তারপরও যতটুকু সম্ভব, আমাদের সেবা অব্যাহত রাখছি।”