

প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপায় সদর ও পানপট্টি ইউনিয়নের সংযোগ সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়দের চলাচল বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ২০০৮ সালে লোহার কংক্রিট দিয়ে নির্মিত এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। প্রায় তিন মাস আগে সেতুর মাঝখানে ফাটল দেখা দিলে মানুষ জীবন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছিল। অবশেষে গত সপ্তাহে সেতুর পূর্বাংশ ধসে পড়ে খালে, ফলে দুই ইউনিয়নের সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ—বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, কৃষক ও রোগী—ডিঙি নৌকা ব্যবহার করে খাল পারাপার করছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছোট নৌকায় ভিড় জমলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে এবং সময়ও অনেক লাগে। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নিরাপদে নৌকায় ওঠার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বাজারে যাওয়া, উপজেলা শহরে চিকিৎসার জন্য যাতায়াত, শিশুদের স্কুলে নেওয়া—সবই এখন ঝুঁকি নিয়ে হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য অস্থায়ী কাঠের সেতু নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সেতুটি দুই ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা। সেতুর দীর্ঘদিনের সংস্কার না হওয়ার কারণে জনজীবন, ব্যবসা ও কৃষি কার্যক্রমে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। ব্রিজ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, সেতু ভেঙে যাওয়ার পর কাস্টমাররা আগের মতো আসছে না, ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পানপট্টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন, “সেতুটি দুই ইউনিয়নের মানুষকে সংযুক্ত রাখত। এখন বন্ধ হওয়ার কারণে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও রোগীদের জীবন দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। কৃষি পরিবহনও বন্ধ হয়ে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।”
স্থানীয়রা দ্রুত সেতু সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এ সেতুটি শুধুই একটি কাঠামো নয়, বরং দুই ইউনিয়নের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও নিরাপত্তার জন্য প্রাণের সংযোগ।