
প্রকাশিত
গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দী ইউনিয়নের মাঝগ্রাম মৌজায় ৩৩৩ শতাংশ নাল জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নিলাম ক্রয়ের মাধ্যমে জমির মালিকানা গ্রহণ করেন স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মৃত মো. বারেক হাওলাদার। এরপর প্রায় সত্তর বছর ধরে ওই জমি চাষাবাদসহ ভোগদখল করে আসছিলেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা।
বারেক হাওলাদারের মৃত্যুর পর একটি পক্ষ জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। তবে প্রতিপক্ষ জাকির মোল্লা ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে বিরোধীয় জমি জোরপূর্বক ভোগদখল করে চাষাবাদের অভিযোগও রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিরোধের অস্থায়ী সমাধান হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাঝগ্রাম মৌজার ৫৬৭, ৫৬৮, ৫৬৯ ও ৫৬৪ নম্বর খতিয়ানসহ ১৬৪১, ১৭৩৪, ১৬৩৯ ও ১৬৪০ নম্বর দাগসহ একাধিক দাগে রয়েছে ওই ৩৩৩ শতাংশ জমি।
এদিকে জমির কাগজপত্র আদালতে দাখিল করে দেওয়ানি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী সোহেল রানা।
প্রতি বছর চাষাবাদের মৌসুমে জমি নিয়ে বিরোধ আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে দাবি তার।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সোহেল রানা বলেন,"আমার বাবা বিগত সত্তুর বছর পূর্ব ২০৫/৫১ নং নিলামকৃত মালিক ইসমাইল হাওলাদার এর কাছ থেকে দলিল গ্রহণ করেছিলেন। ৪৮৪১ নং দলিল মুলে আমার বাবা মৃত বারেক হাওলাদার ৩৩৩ শতাংশ সম্পত্তি কিনেছিলেন। এবং বর্তমানে তা আমরা ভোগদখলে রয়েছি। কিন্তু প্রতিপক্ষদের ৪৮৪০ দলিল মুলে ২৯৯ শতাংশ জমি তাদের ভোগদখলে বহাল থাকলেও আমাদের অংশে ঝামেলা করছে বার-বার। এই ধরনের কাজ থেকে মুক্তি পেতে চাই "।
স্থানীয় বর্গা চাষী মো: হারুন প্যাদা বলেন " বারেক মামায় জীবিত থাকা অবস্থায় কিছু অংশ আমি চাষাবাদ করে আসছি, প্রায় বিশ বছর ধরে। এখনও করতেছি। মোল্লাগো কোনদিন এই জমির ধারেকাছেও দেখেনি। জানিনা কি কাগজের বলে ওরা ঝামেলা করছে"।
এ বিষয়ে সোহেল রানা গলাচিপা থানায় অভিযোগে করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গলাচিপা থানার (ওসি তদন্ত) ঝিলন সিকদার উভয় পক্ষ সহ স্থানীয় ইউ পি (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) নাসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে স্থানীয় আমিন সানু মিয়া, উপজেলা বিএনপি নেতা আ: সোবহান,জামাল হোসাইন ও খলিলুর রহমান এবং সুমন খানের সমন্বয়ে সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত :আদালতের মামলা চুড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ১)মো:আশ্রব জোমাদ্দার২)মো:নাসিম (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) ৩)মো: খলিল গাজী এই তিন জন বিরোধীয় জমি চাষাবাদ করিবেন।
সমাধানের সার্থে বর্গা চাষী হিসেবে সোহেল কে চাষাবাদের দ্বায়িত্ব দেন জিম্মাদার গন। সন্মানিত জিন্মাদার গন চাষাবাদ করার অনুমতি দেওয়ায় জমির চাষাবাদ করে রোয়া রোপণ করেছেন বলে ভুক্তভোগী সোহেল জানান।