
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা,পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করতে গেলে ‘মব’ সৃষ্টি করে আসামি ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের চরকপালবেড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন গলাচিপা থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ। তবে প্রকৃত কারণ স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে গলাচিপা উপজেলার চরকপালবেড়া বাজারে চরকাজল পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচজনের একটি দল মারামারি মামলার আসামি ফোরকান খানকে গ্রেফতার করেন। এ সময় চরশিবা সাংগঠনিক ইউনিট যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাতেম মাতুব্বর, সাবেক সদস্য খলিল হাওলাদার, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি লিটু খানের নেতৃত্বে শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মী মব সৃষ্টি করে আসামিকে গ্রেফতার করতে পুলিশকে বাঁধা দেয়।
এ সময় তারা উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেনকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং আসামি গ্রেফতার না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করেন।
মামলার বাদী হেনা বেগমের দেবর তুহিন খান বলেন, পুলিশ মামলার আসামি ফোরকান খানকে গ্রেফতার করলে চরশিবা সাংগঠনিক ইউনিট যুবদলের নেতা হাতেম মাতুব্বর, খলিল হাওলাদার, লিটু খানের নেতৃত্বে শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মী মব সৃষ্টি করে এবং আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।
যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাতেম মাতুব্বর বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে ছিলাম না। তবে মামলার আসামি ফোরকান খান ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল না, তাই এলাকার লোকজন তাকে (ফোরকান খান) গ্রেফতার না করার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করে।
চরকাজল পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে চরশিবা বাজারে আসামি ধরতে যাই, তবে আমাদের আসার খবর পেয়ে আসামি ওই এলাকা থেকে চলে যায়।
গলাচিপা থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে স্থানীয় দোকানদার মো. ফিরোজ খানের কাছে ফেরদৌস খান, মকবুল খান ও ফোরকান খান বাকিতে সিগারেট চাইলে তিনি পূর্বের টাকা দাবি করেন এবং বাকিতে সিগারেট বিক্রি করবেন না বলে জানান। এ সময় মকবুল খান ও ফেরদৌস খান উত্তেজিত হয়ে দোকানদার ফিরোজ খানকে মারধর করে। ওই ঘটনার সময় ফোরকান খান পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মারামারি দেখে স্থানীয় ইউপি সদস্য দুলাল খান ছাড়াতে আসলে তাকেও বেধড়ক মারধর করে। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য মো. দুলাল খানের স্ত্রী হেনা বেগম বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে গলাচিপা থানায় মামলা করেন।