

প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের শান্তিবাগ এলাকায় এক ভাড়া বাসা থেকে লামিয়া আক্তার (২৫) নামের এক দুই সন্তানের জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে এই ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শান্তিবাগ এলাকার নাসির পল্লান ও পারভীন আক্তার দম্পতির ভাড়া বাসায় গত ৫-৬ দিন আগে তার বান্ধবী ঝুমুর-এর কাছে থাকতে আসেন লামিয়া। ঝুমুর পেশায় একজন নৃত্যশিল্পী। বাড়ির মালিক নাসির পল্লানের স্ত্রী পারভীন বেগম জানান, বাসায় আসার পর লামিয়া নিজেকে একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। গত কয়েকদিন তাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচতে যেতেও দেখা গেছে। মঙ্গলবার সকালে ঘরের ভেতর লামিয়ার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত তার পরিবারকে খবর দেয়। স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশকে অবহিত করা হয়।নিহত লামিয়া আক্তার গলাচিপা পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের শ্যামলীবাগ কটিয়াল পাড়ার আলমগীর হোসেন ও ময়না বেগম দম্পতির মেয়ে। জানা গেছে, অনেক আগে বাবা-মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ায় লামিয়া তার মায়ের কাছেই বড় হন। ব্যক্তিগত জীবনে লামিয়া দুই সন্তানের জননী। প্রথম বিয়ের বিচ্ছেদের পর মোঃ আল-আমিন নামে একজনের সাথে তিনি দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। তার প্রথম সংসারে একটি ছেলে এবং দ্বিতীয় সংসারে একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।খবর পেয়ে গলাচিপা থানার একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠান।
গলাচিপা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান: স্থানীয় ও পরিবারের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি। এটি হত্যা না কি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"
দুই শিশু সন্তান রেখে তরুণী লামিয়ার এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দুই সন্তান রেখে কেন এই তরুণী আত্মহননের পথ বেছে নিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে—তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।