
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় গলাচিপা কেন্দ্রীয় কালী মন্দির কমিটির আয়োজনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতিমা-বিগ্রহ নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়।
বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে শোভাযাত্রায় অংশ নেন শত শত নারী-পুরুষ ভক্ত। কেন্দ্রীয় কালী মন্দির থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সোহরাব মিয়া, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইখতিয়ার রহমান কবির, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আশরাফুজ্জামান, গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সদস্যসচিব মো. জাকির মুন্সীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শোভাযাত্রায় গলাচিপা শ্রীগুরু সংঘের সভাপতি বাবু অসীম কর্মকারের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্যরা এবং লোকনাথ সংঘের সভাপতি পরান বণিকের নেতৃত্বে ভক্তরা ব্যানার নিয়ে অংশ নেন। শোভাযাত্রাকে ঘিরে পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। ধর্মীয় ভক্তি, শঙ্খধ্বনি ও বাদ্যযন্ত্রের তালে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কালী মন্দির কমিটির আহ্বায়ক বাবু শুক্রাঞ্জন বণিক, যুগ্ম আহ্বায়ক রামকৃষ্ণ পালসহ কমিটির সদস্যরা সরকারি কর্মকর্তা, সুধীজন, সাংবাদিক ও ভক্তদের শুভেচ্ছা জানান।
কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের পুরোহিত বাবু বাসুদেব চ্যাটার্জি বলেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবজীবন ও বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে কাজ করতে হবে। তিনি বিশ্বমানবতার শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন।
শোভাযাত্রা শেষে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দ্বাপর যুগের শেষদিকে মথুরা নগরীতে অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে বন্দী দেবকী ও বাসুদেবের ঘরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। ধর্মীয় বিশ্বাসে, অন্যায়, অত্যাচার ও অধর্ম যখন সমাজকে গ্রাস করেছিল, তখন অপশক্তির বিনাশ এবং ন্যায়, সত্য, প্রেম ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দুষ্টের দমন, সৃষ্টির পালন এবং সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য যুগে যুগে ভগবান মানুষের মাঝে অবতীর্ণ হন। শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও আদর্শ মানুষকে সত্য, ন্যায়, প্রেম, সম্প্রীতি ও শান্তির পথে চলার শিক্ষা দেয়।
এই আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করে প্রতি বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী পালন করেন। তাই তাঁদের কাছে জন্মাষ্টমী শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি সত্য, ন্যায়, মানবতা, সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা বহনকারী একটি পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন।